মেলান্দহে পদ ফিরে পেয়ে যোগদানের পরই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে মারধরের অভিযোগ
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে (৫৬) শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ জুন বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে পদ ফিরে পেয়ে কর্মস্থলে যোগদানের পরপরই বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হোরায়রা ও তাঁর লোকজন এই হামলা চালিয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন আসছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হোরায়রা। এরপর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে নিজের চেয়ারম্যান পদটি পুনর্বহাল করতে সক্ষম হন আব্দুস সালাম।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনার দিন (১০ জুন) বিকেলে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট নিজের আনুষ্ঠানিক যোগদানপত্র জমা দেন সালাম চেয়ারম্যান। কিন্তু ইউএনও অফিস থেকে বের হয়ে চত্বরে আসামাত্রই প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হোরায়রা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলবল নিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। এ সময় উপস্থিত ইউপি সদস্য (মেম্বার) বেলাল হোসেন, চাঁন মিয়া এবং স্থানীয় পথচারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে সালাম চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করেন।
তবে মারধরের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হোরায়রা। তিনি দাবি করেন, "মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার ভাতিজা জিয়াউল হকের সাথে সালাম চেয়ারম্যানের পূর্বের ৪ লাখ টাকার একটি ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। মূলত সেই পাওনা টাকা নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের মধ্যে কেবল কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র।"
এই বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আরা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "কুলিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আমার কার্যালয়ে এসে তাঁর আদালতের কাগজসহ যোগদানপত্র জমা দিয়ে চলে গেছেন। তবে আমার অফিসের বাইরে বা চত্বরে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানি না। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।