![]() |
| জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার পরিদর্শন করলেন নবাগত ভিসি |
জাবিপ্রবি’র অত্যাধুনিক গবেষণাগার পরিদর্শন করলেন নবাগত ভিসি: সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ এলাকায় অবস্থিত জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) অত্যাধুনিক গবেষণাগার ‘ইভোলিউশন অ্যান্ড ডাইভার্সিটি ল্যাব’ পরিদর্শন করেছেন নবাগত উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া। পরিদর্শনকালে তিনি ল্যাবের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং গবেষক দলের সাথে মতবিনিময় করে ল্যাবটিকে আরও এগিয়ে নিতে পর্যাপ্ত জায়গাসহ (স্পেস) যাবতীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফিশারীজ কলেজকে ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়। প্রফেসর ড. সৈয়দ শামসুদ্দিন আহমেদের প্রথম ভিসি হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটিকে ‘জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর স্থাপিত ‘ইভোলিউশন অ্যান্ড ডাইভার্সিটি ল্যাব’ নামের গবেষণাগারটি ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। করোনাকালে এই ল্যাব থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টায় বিনামূল্যে অ্যান্টিভাইরাল ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছিল। এছাড়া মাছ, ব্যাঙ ও সাপ নিয়ে গবেষণায় বড় সাফল্য দেখিয়েছে এই সেল। বিশেষ করে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম যমুনার মিঠা পানির ইলিশ এবং রুই মাছের জিনোম (Genome) আবিষ্কার করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনন্য নজির স্থাপন করেছে জাবিপ্রবি।
বর্তমানে এই ল্যাবে জেনেটিক অ্যানালাইজার, মাছ-সাপ-ব্যাঙের সিকুয়েন্স জিন, ডিএনএ (DNA) টেস্ট, আরটি-পিসিআর (RT-PCR) মেশিনের সাহায্যে করোনাভাইরাস ও বিভিন্ন জীবাণু চিহ্নিতকরণসহ নানাবিধ উচ্চতর বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে যেকোনো প্রাণীর নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণ এবং তাদের ইভোলিউশনারি হিস্ট্রি বা বিবর্তনের ইতিহাস জানা সম্ভব হচ্ছে।
জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও পোস্ট-ডক সম্পন্ন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান এই গবেষণা সেলটি পরিচালনা করছেন। তার সাথে গবেষক দলে রয়েছেন আরেক সহকারী অধ্যাপক রফিকুল বারী মামুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ। ল্যাবের পরিচালক ড. মাহমুদুল হাসান, যার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে ৪৬টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, তিনি জানান— এই ল্যাবটি ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধি নির্ণয়েও সহায়ক ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি আধুনিক ‘গবেষণার মিউজিয়াম’ বা বৈজ্ঞানিক জাদুঘরে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।