![]() |
| রৌমারীতে অবৈধ ট্রাক্টরের চাপায় যুবক নিহত, আহত ৫: মামলা না করতে চাপ ও লাশ নিয়ে রফাদফার অভিযোগ! |
রৌমারীতে অবৈধ ট্রাক্টরের ধাক্কায় যুবক নিহত, আহত ৫: লাশ নিয়ে রফাদফার অভিযোগ!
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মাটিকাটা অবৈধ ট্রাক্টরের (কাঁকড়া) চাকায় পিষ্ট হয়ে স্বদীব চন্দ্রদাস (৩২) নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় একই পরিবারের শিশুসহ আরও ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রৌমারী-ঢাকা মহাসড়কের কাঁঠালবাড়ী ফেডারেশন নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত স্বদীব উপজেলার নমদাস পাড়া গ্রামের মৃত নালুরাম দাসের ছেলে।
গুরুতর আহতরা হলেন—ধনারচর গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৪৫), নমদাস পাড়ার দরবারু চন্দ্রদাস (৪০), সবুজপাড়া গ্রামের ময়মনা মারিয়া (২০), একই গ্রামের শিশু আয়েশা সিদ্দিকা (৭) এবং ভবেন দাস (২৫)। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
স্থানীয়, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে উপজেলার কর্তিমারী বাজার থেকে একটি যাত্রীবাহী অটোবোরাক (ইজিবাইক) রৌমারী সদরের দিকে আসছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মাটি বোঝাই একটি বেপরোয়া গতির অবৈধ ট্রাক্টর অটোবোরাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোবোরাকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই স্বদীব চন্দ্রদাসের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ ট্রাক্টরগুলোর চালক মূলত ১৩ থেকে ১৬ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোররা, যাদের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।
এদিকে দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ এবং ঘাতক ট্রাক্টর ও অটোবোরাকটি থানায় নিয়ে যায়। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রহস্যজনক কারণে লাশটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মাতব্বর, ট্রাক্টর ও অটোবোরাক মালিক সমিতির প্রতিনিধি এবং জনপ্রতিনিধিরা নিহতের লাশ নিয়ে 'অর্থের খেলায়' মেতে ওঠেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, ঘাতক ট্রাক্টরের মালিক জন্তির কান্দা গ্রামের আমিরুল ইসলাম ও তার সমিতির সদস্যরা মামলা না করার জন্য তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা বা আপস-মীমাংসা করে লাশ শ্মশানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ‘রাক্ষুসে’ অবৈধ ট্রাক্টরগুলো এলাকায় প্রতিনিয়ত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে এই অবৈধ যান চলাচল বন্ধের জোর দাবি জানান।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলী বলেন, "দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাক্টর ও অটোবোরাকটি থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।