![]() |
| রৌমারীতে জিঞ্জিরাম নদীর ওপর একটি ব্রিজের হাহাকার: ৭ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে |
কয়েক যুগের অপেক্ষা, মেলেনি ব্রিজ: রৌমারীতে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার ৩০ হাজার মানুষের
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর ইছাকুড়ি গ্রামের জিঞ্জিরাম নদীর ওপর একটি ব্রিজের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাতটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে এলাকাবাসী এখানে একটি স্থায়ী ব্রিজের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন। ফলে গ্রামবাসীর অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই এখন পারাপারের একমাত্র ভরসা।
বুধবার (৬ মে) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের পূর্ব ইছাকুড়ি, মির্জাপাড়া, ফুলবাড়ি, উত্তর গোয়াল গ্রাম, ঠনঠনিপাড়া, গোয়সুল্লের চর ও কোনাচীপাড়া গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় কোমলমতি স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক ও রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া বা কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় স্থানীয়দের।
ফুলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কয়েক যুগ ধরে আমরা এই কষ্টের মধ্যে আছি। আমাদের সন্তানরা নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করে, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দ্রুত এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।"
ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, জিঞ্জিরাম নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিখাতেও আমূল পরিবর্তন আসবে। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন।
রৌমারী সদর ইউপি সদস্য রুহুল আমিন জানান, ব্রিজের ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু মাটি ভরাটের কাজ করা হয়েছে। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের জন্য তিনি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।"
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, জিঞ্জিরাম নদীর ওই পয়েন্টে ব্রিজের জন্য একটি প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।