![]() |
| উল্লাপাড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় ওয়েল মিলে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৪: ক্যাশ লুটপাটের অভিযোগ |
উল্লাপাড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় ওয়েল মিলে হামলা-ভাঙচুর, বৃদ্ধসহ আহত ৪: ক্যাশ লুটের অভিযোগ
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের বাঁখুয়া এলাকায় অবস্থিত ‘মিলন ওয়েল মিল’-এ চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সংঘটিত এই ঘটনায় মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতরা হলেন— অপূর্ব (৩০), আলহাজ্ব মোঃ সেরাজুল ইসলাম (৭৪), মোঃ রফিকুল ইসলাম রতন (৪৫) এবং হাসানুর রহমান হিরা (৩০)।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাঁখুয়া এলাকার মিলন ওয়েল মিলের অফিসে একই গ্রামের মৃত আব্দুস ছামাদ চেয়ারম্যানের ছেলে মিজানুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রবেশ করে। তারা মিল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ সময় তাদের সঙ্গে বদরুদ্দোজা প্রিন্স, ফয়সাল আহম্মেদ, কামাল উদ্দিন, মোঃ সমাজসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি অংশ নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসের আসবাবপত্র ও কম্পিউটার ভাঙচুর শুরু করে এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। মিলের কর্মচারী অপূর্ব এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা ৭৪ বছর বয়সী আলহাজ্ব সেরাজুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মিল মালিক রফিকুল ইসলাম রতন ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকেও মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা যাওয়ার সময় অফিসের ক্যাশ বাক্সে থাকা ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং দুটি দামী স্মার্টফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী হাসানুর রহমান হিরা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূণভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আজ পরিকল্পিতভাবে চাঁদা দাবির পর আমাদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে জানমালের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
তবে চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মিজানুর রহমান বাবু। পাল্টা দাবি করে তিনি বলেন, “মিল মালিক রফিকুল ইসলাম রতন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি খোলস বদলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করে এলাকায় শুভেচ্ছা পোস্টার প্রকাশ করেন। একজন সুযোগ সন্ধানী নেতার এমন পোস্টার দেখে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তার প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলেন। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চাঁদা বা লুটের অভিযোগ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) রূপুকর জানান, “ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।