চামড়ার পণ্যের যত্ন

S M Ashraful Azom
চামড়ার পণ্য দেখতে যেমন সুন্দর তেমনই টেকসই। তবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে চাইলে সঠিক যত্ন নেয়া প্রয়োজন। অ্যাকসেসরিজ নিয়ে যাদের প্যাশন রয়েছে তাদের কাছে চামড়ার ব্যাগ, জুতো, জ্যাকেট তো খুবই পছন্দের। এছাড়া শীতে চামড়ার পণ্যের নিতে হয় বাড়তি যত্নের। কিন্তু দেখা যায়, সঠিক যত্ন ও ব্যবহারের অভাবে চামড়ার পণ্যের চাকচিক্য ভাব অনেকটা কমে যায়। একটু যত্ন নিলেই অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কীভাবে চামড়ার পণ্যের যত্ন নেবেন।
 
১. ভেজা জুতা থেকে পানি সরানোর জন্য নিউজপ্রিন্ট কাগজ, জুতার ভেতর ও বাইরে দিয়ে কিছুক্ষণ মুড়িয়ে রাখুন। নিউজ প্রিন্ট পানি শুষে নিবে। এছাড়া শুকনা কাপড় দিয়েও ভালোমতো পানি মুছে নিতে পারেন।
২. পানি ঝরানো জুতা না শুকানো পর্যন্ত ব্যবহার করবেন না। রোদে জুতা শুকান। কয়েকদিন রোদ না উঠলে চুলার আগুনের ভাপে জুতা শুকানো যেতে পারে।
৩. শুকানোর পর জুতায় অবশ্যই ভালো কালি ও ক্রিম ব্যবহার করুন।
৪. জুতা যদি বারবার ভিজে তাহলে একমাসের মধ্যে চামড়ায় পচন ধরার সম্ভাবনা থাকে। তাই ভেজা মৌসুমে চামড়ার জুতা না পরাই ভালো।
৫. চামড়ার ব্যাগ যদি ভিজে যায়, তাহলে শুকনা কাপড় দিয়ে পানি মুছে নিন। তারপর পাখার বাতাসে শুকান। এরপর যে কোনো তেল (নারিকেল বা অলিভ অয়েল) হালকা করে ব্যগে মাখুন। ট্যানারির ব্যবসায়ীরা এক্ষেত্রে সাধারণত নারিকেল তেল ব্যবহার করে থাকে। বেল্টের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
৬. তেল ছাড়াও একধরনের কেমিক্যাল পাওয়া যায়। আমরা হাজারিবাগের লোকজন একে ‘ইয়াম’ বলি। এই কেমিক্যাল হালকা করে যে কোনো চামড়ার পণ্যের ওপর ঘষলে সেটা চকচকে হয়। আবার বেশি জোড়ে ঘষলে রং উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইয়াম চামড়ার পণ্যে এক দুই মাস অন্তর ব্যবহার করলে চামড়ার জুতা, ব্যাগ, বেল্ট ভালো থাকে। তবে নরম চামড়াজাত পণ্যে ইয়াম ব্যবহার না করাই ভালো।
৭. অনেকদিন রেখে দিলে চামড়ার জিনিসের ওপর একধরনের সাদা প্রলেপ পড়ে। যাকে ফাঙ্গাসও বলা হয়। এটা উঠানোর জন্য ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ভালোমতো শুকিয়ে চামড়ার পণ্যে হালকা তেল পালিশ করুন।
৮. চামড়ার ব্যাগ, জুতা বা বেল্ট বেকায়দায় থাকলে ভাজ হয়ে দাগ পড়ে যায়। সেটা উঠানোর জন্য প্রথমে ভাজ হওয়া জায়গা সমান করে ধরে এর উপর পানি ঝরানো মোটা ভেজা কাপড় দিন। তারপর ভেজা কাপড়ের উপর দিয়ে মোটামুটি তাপে ইস্ত্রি করুন। মনে রাখবেন, ভেজা কাপড় শুকিয়ে গেলেই আবার ভিজিয়ে ইস্ত্রি করতে হবে। কোনো মতেই যেন ইস্ত্রির তাপ সরাসরি চামড়ার পণ্যে না লাগে। রেক্সিনের পণ্যে আবার এই পদ্ধতি ফলাতে গেলে, জিনিসটাই নষ্ট হয়ে যাবে।    
৯. চামড়ার যেকোনো পণ্য এসির ভেতর খুব ভালো থাকে। সবার বাসায়তো এসি নেই, তাই যতটা সম্ভব ঠাণ্ডা জায়গায় রাখার চেষ্টা করুন চামড়ার ব্যাগ, জুতা বা বেল্ট।
১০. জ্যাকেট খুব ড্রাই মনে হলে লেদার কন্ডিশনার দিয়ে জ্যাকেট পলিশ করুন। এতে চামড়ার শুকনো ও কুঁচকানো ভাব দূর হবে। তবে কুঁচকানো ভাব বেশি থাকলে প্রফেশনাল লেদার ক্লিনারের কাছে নিয়ে যান। জ্যাকেট সবসময় হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখলে এই কুঁচকানো ভাব আর দেখা দিবেনা। অনেকদিন প্লাস্টিক প্যাকেটে মুড়ে রাখলেও চামড়ার ক্ষতি হয়। তাই মাঝে মধ্যে লেদারের জ্যাকেট বাহিরে বের করে রাখুন। এতে ভালো থাকবে। চামড়ার  জ্যাকেট যদি কোনো কারণে ভিজে যায় তাহলে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখুন এবং রুম টেম্পারেচারে ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে যেতে দিন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না। এতে চামড়া শক্ত হয়ে কুঁচকে যেতে পারে।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top