এমপি লিটন কোথায়!

S M Ashraful Azom
এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন
শিশু সৌরভ গুলিবিদ্ধ হওয়া ঘটনায় মামলার একমাত্র আসামি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন কোথায় বলতে পারছেন না কেউ। পুলিশ বলছে তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ঘটনার পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন বলে গত ৭ অক্টোবর রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি এজাহারে এমপি নিজেই স্বীকার করেছেন। এদিকে ঘটনার ৯ দিনেও অভিযুক্ত এমপি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ ও ন্যায়বিচার নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও সৌরভের স্বজনরা। উল্টো ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
 
এমপির গ্রেফতার বিষয়ে জানতে চাইলে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বলেন, আসামি একজন সংসদ সদস্য। বিধি মোতাবেক তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। খোঁজ পেলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।
 
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় এমপির সহধর্মিণী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতির সাথে এই প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, এই ঘটনার পর কি বাড়িতে (বামনডাঙ্গা) থাকা যায়। তবে কোথায় আছেন সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হন নাই।
 
সৌরভের পরিবার আতংকে: গুলিতে আহত শিশু সৌরভের পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানের চিকিত্সা ব্যয় বহনের দুঃশ্চিন্তার পাশাপাশি সংসদ সদস্যের ভয়ে দিনমজুর পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। মামলার ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মামলার বাদি সৌরভের পিতা সাজু মিয়া। তিনি নিজের ভাষায় বলেন, ‘এমপি না হয়্যা, যদি আসামি সাধারণ লোক হল হয়। তাহলে এ্যাদিন গ্রেফতার হল হয়। ওমার ম্যালা ট্যাকা-পয়সা আছে, তাই পুলিশ বাহিনী গ্রেফতার করব্যার পারে নাই। হামরা কি এর ন্যায় বিচার পামু !’
 
সৌরভের মা সেলিনা বেগম সংশয় প্রকাশ করে আঞ্চলিক ভাষায় জানান, ‘ছ্যোল পোল নিয়্যা হামরা আগের নাকান বাড়ীত থাকপ্যার পামু তো। হামার সাথে এমপির কিসের আক্রোস। প্রধানমন্ত্রীর কাছে হামরা এর বিচার চাই।’
 
এদিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবুল কুমার সাহা জানান, হাসপাতালে চিকিত্সাধীন শিশু সৌরভ এখন অনেকটা শঙ্কামুক্ত। তবে পুরোপুরি ভালো হতে আরো অপেক্ষা করতে হবে।
 
ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা: এমপি লিটন গত ৯ দিনেও গ্রেফতার না হওয়ায় ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমদাদুল হক বাবলু, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন প্রামাণিকসহ এলাকার অনেকেই। স্থানীয়রা জানান, এলাকার পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং এ ঘটনা থেকে রেহাই পেতে নতুন নতুন আষাঢ়ে গল্প ফাঁদছেন এমপি। ওই দিনের ঘটনায় এমপি বাদি হয়ে তার গাড়িতে হামলাসহ তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। সেখানে সব দোষ চাপানো হয়েছে সুন্দরগঞ্জের জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর। নিজেকে রক্ষা করতেই তিনি ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি ইসরাইল হোসেন।
 
এ ব্যাপারে উপজেলার একাধিক বাসিন্দা তাদের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘এ্যাদিন পর তারা নয়া গপ্পো ফান্দায়াছে। জামায়াত বলে তাক মারব্যার গ্যাছে। হামারঘরের এলাকাত জামায়াত এ্যাখোন ইন্দুরের গর্তোত ডুকছে। আসলে এল্ল্যা (এখন) আইনের চাকা ঘুরব্যার জন্যে গপ্পো বানায়াছে এমপি লিটন।’
 
সক্রিয় এমপির ক্যাডাররা: ঘটনার দুই দিন পর থেকে আবারো এলাকায় সরব হয়েছে এমপি লিটনের পেটোয়া বাহিনী। তারা আন্দোলনকারীদের হুমকি দিচ্ছে। ঘটনার বিচারের দাবিতে সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় লাগানো পোষ্টার ছিঁড়ছে। এছাড়া এমপি লিটনের বিরুদ্ধে এঘটনা আড়াল করতে টাকা ছড়ানো ও মামলার বাদিকে হুমকি দেয়ার অভিযোগও উঠেছে।
 
প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর সকালে এমপির লাইসেন্স করা পিস্তলের গুলিতে আহত হয় শিশু সৌরভ। তার দু’পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনার পরদিন সৌরভের বাবা বাদি হয়ে সংসদ সদস্য মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় এমপির শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকাবাসী।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top