অ্যাপলের আইফোন, আইপ্যাড ও অন্যান্য মোবাইল ডিভাইসের জন্য গত মাসেই অবমুক্ত করা হয়েছে অ্যাপলের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম আইওএসের নতুন সংস্করণ আইওএস ৯। আগের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমের চাইতেও বেশকিছু ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা যুক্ত হয়েছে এই সংস্করণে। নতুন এই সংস্করণে আইফোন বা আইপ্যাড আপডেট করে নিলে তার সুরক্ষার জন্য বেশকিছু সেটিংস শুরুতেই পরিবর্তন করে নেওয়া প্রয়োজন। আইফোন ও আইপ্যাড এবং এগুলোতে রক্ষিত তথ্যের সুরক্ষার উপায়:
পাসওয়ার্ড দেওয়া
যেকোনো ধরনের প্রযুক্তি ডিভাইস এবং অনলাইন অ্যাকাউন্টের সুরক্ষার প্রথম ধাপই হলো এর জন্য শক্তিশালী একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা। আইওএস ৯-এ আপডেটের পরও তাই আপনার মনে রাখার মতো যথাসম্ভব দীর্ঘ এবং জটিল পাসওয়ার্ড সেট করে নিন। ডিভাইসের সেটিংস থেকে টাচ অ্যান্ড আইডি পাসকোড অপশনে গিয়ে যুক্ত করা যাবে পাসওয়ার্ড। এখানে Passcode Options সক্রিয় করলে নিউমেরিক বা আলফানিউমেরিক পাসওয়ার্ড নিজের মতো করে তৈরি করে নিতে পারবেন।
অ্যাপের ডাটা আপলোড নিয়ন্ত্রণ করুন
কনট্যাক্টস, ইমেইল, ক্যালেন্ডার, ফটো প্রভৃতি অ্যাপে মূলত ব্যক্তিগত অনেক তথ্যই থাকে। এসব অ্যাপে রক্ষিত তথ্যে যাতে অন্য কোনো অ্যাপ নাক না গলাতে পারে, সেটা তাই নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অনেক অ্যাপসই রয়েছে যেগুলো এসব তথ্য চেয়ে বসে। তাই প্রতিটি অ্যাপের সেটিংস থেকে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ডিভাইসের সেটিংস থেকে প্রাইভেসিতে গিয়ে প্রতিটি অ্যাপ নির্বাচন করে আপনি সেই অ্যাপের জন্য নির্ধারণ করে দিতে পারবেন সে কোন তথ্যগুলোতে অ্যাকসেস করতে পারবে।
ফাইন্ড মাই আইফোন সক্রিয় করুন
আপনার সাধের আইফোন বা আইপ্যাড হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে, তা অসম্ভব কিছু তো নয়। এমনটি কোনো কারণে হয়ে গেলে ফোন বা প্যাডটির অবস্থান জানার জন্য ‘ফাইন্ড মাই আইফোন’ (বা আইপ্যাড) সক্রিয় করে রাখুন। ডিভাইসের সেটিংস থেকে আইক্লাউডে গিয়ে এই অপশনটি সক্রিয় করে নিতে পারবেন। অপশনটি সক্রিয় থাকলে ফোন বা প্যাড হারিয়ে গেলেও তার অবস্থান চিহ্নিত করা, ডিভাইস লক করা, এর তথ্য মুছে দেওয়া, অন্য কেউ ডিভাইসের তথ্য মুছতে চাইলে বা ডিভাইস সক্রিয় করতে চাইলে তা করতে না দেওয়া প্রভৃতি কাজ করতে পারবেন। এর পাশাপাশি ‘সেন্ড লাস্ট লোকেশন’ অপশনটি চালু রাখলে ডিভাইসের চার্জ শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তের অবস্থানটি ডিভাইস থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে অ্যাপল সার্ভারে।
অ্যাপের লোকেশন ট্র্যাকিং বন্ধ রাখুন
অনেক অ্যাপই রয়েছে যেগুলো চালু না থাকলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার লোকেশন ট্র্যাক করে থাকে। কোনো অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার লোকেশন ট্র্যাক করার জন্য অনুমতি চাইলে তা নাকচ করে দিন। কেননা, এই প্রস্তাবে সম্মত হলে এটি সার্বক্ষণিক আপনার লোকেশন ট্র্যাক করবে এবং আপনার অবস্থান অনুযায়ী সেই অ্যাপ থেকে নানা ধরনের নোটিফিকেশনও প্রদান করা হবে আপনাকে। তাই কোনো অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে লোকেশন ট্র্যাকের অনুমতি চাওয়ামাত্রই তাতে অসম্মতি জানান।
ভয়েজ ও ভিডিও মেসেজের আয়ু কমান
আইওএস ৮ থেকে চালু হয়েছে অ্যাপলের নিজস্ব আইমেসেজের মাধ্যমে ভয়েজ ও ভিডিও মেসেজ পাঠানোর সুবিধা। এসব মেসেজ স্বাভাবিকভাবে অনন্তকাল ধরে আপনার ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকতে পারে। এতে একদিক থেকে যেমন ডিভাইসের স্টোরেজের জায়গা দখল করে রাখবে, অন্যদিকে এসব মেসেজ একান্ত ব্যক্তিগত হলে সেগুলো থেকে যাওয়া অন্যদের চোখে পড়ার মতো সম্ভাবনার জন্ম দেয়। এসব মেসেজ তাই ডিলিট করে দেওয়াই ভালো। নিজে থেকেই প্রতিটি মেসেজ বারবার ডিলিট করার ঝামেলায় অবশ্য যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সেটিংসে একটু বদল করলেই প্রতিটি মেসেজের জন্য নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে দিতে পারবেন আপনি। ওই নির্দিষ্ট সময় পর প্রতিটি মেসেজই নিজে থেকেই ডিলিট হয়ে যাবে। ডিভাইসে সেটিংস থেকে মেসেজ, অডিও মেসেজ ও ভিডিও মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘কিপ মেসেজ’ অপশনে গেলেই পাবেন প্রতিটি মেসেজের আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে দেওয়ার ফিচারটি।

