আগে থেকেই ধারণা ছিল ডেনিমের ফ্যাশন শো মানে ভাল কোন শোই হবে। তাই প্রথম থেকেই ফটোগ্রাফার লয়েড তুহিন হালদারের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আমরা মটরবাইকে অনেক ঘুরে এসে নির্ধারিত সময়ে অনেক আগেই উপস্থিত হলাম হোটেল রেডিসন ব্লু উইন্টার গার্ডেনে। ঢুকতেই অভ্যর্থণা জানালেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের অরেন্টিয়ার রাজিন চৌধুরী। তার কাছ থেকে ইনভাইটেশন কার্ড নিয়ে ভেতরে ঢুকতেই আবার সব ফটোগ্রাফর ও সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বললেন আয়োজকদের এক জন। একটু পর সবাইকে বুফেতে দেয়া হলো মাশরুমের স্যূপ। স্যুপ খেতে খেতেই আমরা বুঝতে পারলাম রাতে ফিরতে দেরি হবে। আমাদের সঙ্গে অনেক বিদেশীরাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাচ্ছিলেন। অনুষ্ঠানটিতে প্রথম থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তা। দেশের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভেতরে সবাই বসতেই ফটোগ্রাফাররা যে যার স্থান করে নিল। সব ফটোগ্রাফররাই ক্যাটওয়াক স্টেজ বরাবর ক্যামেরা তাক করতে চায়। তাই কেউ একটু দূরে দাঁড়াতে চায় না। একসময় ঘোষণা আসলো লাইট বন্ধের। লাইট বন্ধ হতেই শুরু হলো ফ্যাশন শো। শুধুমাত্র স্টেজে লাইট দেয়া হলো। ক্যাটওয়াকের দুপাশে সারি সারি চেয়ারগুলোতে তখন দেশি-বিদেশি অতিথিদের চোখ স্টেজের উপর। একে একে হাঁটা শুরু করলো মডেলরা। চারদিকে তখন পিনপতন নিরবতা। একে একে মডেলরা ক্যাটওয়াকে হেঁটে আবার অন্য রুমে চলে যাচ্ছে। চারপাশ থেকে ক্যামেরার ফ্লাশের ঝলকানি। পুরুষ ও নারী মডেলদের পরনে কারো খাটো প্যান্ট, কারো ডেনিম জিন্সের শার্ট। কারো চোখে চশমা, কারো বা স্টাইলিশ চুল। মোট তিন পর্যায়ের এই ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ করেছে দেশের সব নামকরা মডেলরা। মডেল বলে কথা, সব পুরষ মডেলদেরই মেদ বিহীন শরীর। নারীদের গ্লামার্স লুক। ঠিক যেন বিড়ালের মত খুব সাবধানে আলতো করে পা ফেলে হেঁটে যায় মডেলেরা। তাদের শরীর দুলে ওঠে। হাততালি আর উচ্ছ্বাসের চিৎকার বাড়ে চারপাশে। ক্যামেরার ফোকাসের আলোর ঝলকানি শুরু হয। মুহূর্তই পুরো মঞ্চটি অন্য এক রূপ নেয়। দৃষ্টিনন্দন ডেনিম পোশাকে সব মডেলরা যেন সেই সন্ধ্যার আকাশের ঝিকিমিকি তারা। এক সময় শেষ হলো ফ্যাশন শো। করতালীতে মুখর হয়ে উঠলো চারদিক। ঘোষণা এলো এবার ক্যাটওয়াকে আসবেন এই ফ্যাশন শোর কোরিওগ্রাফার লুনা। ৬জন পুরুষ মডেলদের সঙ্গে হেঁটে এলেন কোরিওগ্রাফার লুনা। আবার করতালিতে মুখর হয়ে উঠলো পরিবেশ। এভাবেই শেষ হলো একটি সন্ধ্যার তারা ঝিলমিল অধ্যায়। বের হয়ে আসতেই দেখা মিললো রাতের খাবারের। লাইন ধরে যে যার মতো করে খাবার নিয়ে নেয় প্লেটে। তারপর ফিরে যাওয়ার পালা। আবার মটর সাইকেল ও আবার একঘেয়ে যাত্রা শেষে বাড়ি ফেরা। এভাবেই একটি ফ্যাশন শো’র আয়োজন হয়েছিলো গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর রেডিসন ব্লু উইন্টার গার্ডেন হোটেলে। শো’টির আয়োজন করেছিলো ডেনিমস অ্যান্ড জিনস.কম প্রতিষ্ঠান। মূলত দুদিনের ডেনিম পোশাকের চতুর্থ এই বাংলাদেশ শো ২০১৫ এর এবারের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, জার্মানি, তুরস্ক, চীন ও ব্রাজিলের মোট ২৮টি কোম্পানি। তারা তাদের উৎপাদিত ডেনিম পণ্য প্রদর্শন করেন সেই সকাল থেকেই। দুইদিনের এই আয়োজনে গতকাল প্রথম দিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত আমন্ত্রিত দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত ছিল। সন্ধ্যায় ছিল ডেনিম পোশাকের মনোরম এই ফ্যাশন শো। আয়োজনের টেকনিক্যাল পার্টনার ছিলো জি আই জেড প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পক্ষ হয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে থাকে। উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের প্রথম সারির ডেনিম উৎপাদনকারী দেশ। এবং ইউরোপে রপ্তানীকারক দেশগুলোর মধ্যে প্রথম। অংশগ্রহণকৃত একটি তুর্কি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ‘ওরতা’। তারা এখানে প্রদর্শনে আসতে পেরে অনেক খুশি। এর সেলস ম্যানেজার ডেনিজ ডিন্ক তার ভাষায় বলেন, ‘দুইদিনের আয়োজনে আজ প্রথম দিন। সকালের দিকে লোকজন কম ছিল তাই মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু দুপুরের পরেই লোকজন আসা শুরু করে তখন ভাল লাগে। অনেকে ঘুরে দেখেছে। যোগাযোগ হয়েছে। পরে সবাই যোগাযোগ করবে। আশা করি আগামীকাল আরো বেশি দর্শনার্থী আসবে।’

