ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর
বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) অনির্দিষ্ট কালের জন্য
বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে মেডিক্যাল
কলেজ বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি বিকাল ৪টার মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের হল ত্যাগের
নির্দেশ দেয়া হলে সকলেই হল ছেড়ে চলে গেছেন।
উপাধ্যক্ষ
ডা. রেজাউল আলম জানান, ক্যান্টিনের পরিচালনা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। বড় ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভব না
হয় সেজন্য একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা
করা হয়েছে।
শহিদ
জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইন্টার্ন চিকিত্সক ডা.
সিজার ও সাধারণ সম্পাদক ডা. আশরাফ গ্রুপের মধ্যে কলেজের ক্যান্টিন পরিচালনা
নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে
ক্যান্টিনের খাবার মান নিয়ে দুই গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়। এর
জের ধরে রাত ১টার দিকে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা ও হকিস্টিক নিয়ে
সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আধা ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ক্যান্টিন ছাড়াও হোস্টেলের
তিনটি কক্ষ ভাংচুর এবং মালামাল তছনছ করা হয়। কমপক্ষে আহত হন ৭ জন। সংঘর্ষের
পর রাতেই কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বুধবার
সকাল থেকে আবারো দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে অতিরিক্ত পুলিশ
মোতায়েন করা হয়। পরে বেলা ১১টায় একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি বৈঠকে
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মেডিক্যাল কলেজ বন্ধ
ঘোষণার পাশাপাশি বুধবার বিকাল ৪টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের হল ত্যাগের
নির্দেশ দেয়া হয়।
হঠাত্
করেই কলেজ বন্ধ এবং হল ফাঁকা করার নির্দেশ দেয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের
সমালোচনা করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা
জানান, কলেজ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সভাপতি এবং সাধারণ
সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাঝেমধ্যেই জটিলতার সৃষ্টি হয়।
প্রতিবাদ করার সাহস নেই কারও। ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের। সংঘর্ষের
কারণ ও গ্রুপিং বিষয়ে জানতে চাইলে কোন কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন শজিমেক
ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

