![]() |
| রৌমারী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গভীর গর্ত, ধসে পড়েছে ওয়াশ ব্লক: চরম ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা! |
রৌমারী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গভীর গর্ত, ধসে পড়েছে ওয়াশ ব্লক: চরম ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা!
সাম্প্রতিক সময়ে টানা ভারী বর্ষণ ও এর ফলে সৃষ্ট পানির তীব্র স্রোতে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রৌমারী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ভেঙে এক বিশাল ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একই সাথে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের পাশে অবস্থিত একমাত্র ওয়াশ ব্লকের (টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা) নিচের মাটি সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে স্থাপনাটি এখন ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে চরম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা। দ্রুত এটি সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের একপাশ জুড়ে বিশাল গর্ত তৈরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ও খেলাধুলা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকটি, যার নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এটি এখন কাঠামোগতভাবে চরম নড়বড়ে ও ঝুলন্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির কারণে অভিভাবকেরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন। অনেক অভিভাবক আবার দুর্ঘটনার ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোই সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর বিষয়টি আমল নিয়ে ইতিমধ্যেই রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন বিদ্যালয়টি সশরীরে পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
এদিকে, রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই চৌধুরী এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, "বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উদ্বেগজনক। আমি দ্রুতই উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষিকার সাথে এই বিষয়ে সার্বিক কথা বলব এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরেজমিনে স্পট পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।"
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রৌমারী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছাৎ নাজমা খাতুন। তিনি বলেন, "বিদ্যালয়ের এই বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হওয়ার পরপরই আমি লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়ে ইউএনও স্যার বরাবর একটি জরুরি দরখাস্ত দিয়েছিলাম। কিন্তু বর্তমানে টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি গর্তে মাটি ভরাট ও গাইড ওয়াল নির্মাণ করে সংস্কার না করা হয়, তবে কোমলমতি শিশুদের জীবন রক্ষার্থে যেকোনো সময় বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প উপায় থাকবে না।"
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ অভিভাবকদের দাবি— আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কিংবা শুধু মৌখিক আশ্বাসের বেড়াজালে আটকে না থেকে, অতি দ্রুত প্রশাসনের জরুরি তহবিল থেকে মাটি ভরাট ও গাইড ওয়াল নির্মাণের ব্যবস্থা করা হোক। রৌমারীর এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শত শত কোমলমতি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনই কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেবেন— এমনটাই প্রত্যাশা রৌমারীবাসীর।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।