![]() |
| কোনো কর্মীকে আশ্রয় নয়, মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাদের সবার আগে গ্রেফতার করুন: জামালপুরে এমপি ওয়ারেছ আলী মামুন |
মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের সর্বপ্রথম গ্রেফতার করুন: জামালপুরে এমপি ওয়ারেছ আলী মামুন
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেছেন, "দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কোনো বিএনপি নেতাকর্মী মাদকের কারবারের সাথে জড়িত থাকে, তবে পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলব— আপনারা সবার আগে তাকেই গ্রেফতার করুন। নিজেদের ঘর আগে পরিষ্কার না করলে অন্য কাউকে আমরা মাদক থেকে প্রতিরোধ করতে পারব না।"
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে জামালপুর শহরের স্টেশন রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি ওয়ারেছ আলী মামুন বিগত সরকারের সমালোচনা ও দলীয় নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের মদদ পেয়ে মাদকের একচ্ছত্র সিন্ডিকেট ও ব্যবসা করেছে, তারা এখন রাজনৈতিক ছত্রছায় পরিবর্তন করে বিএনপির কোনো না কোনো নেতার আশ্রয় নেওয়ার অপচেষ্টা করবে। আমরা যদি সত্যিই একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই, তবে সর্বপ্রথম বিএনপি নেতাকর্মীদের সংগঠিত হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না এবং আমরা নিজেরা কোনোভাবেই মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হব না।"
তিনি আরও বলেন, "ক্ষমতায় বা সরকারি দলে থাকলে অনেক সময় নেতাকর্মীরা নির্বিঘ্নে একটু আনন্দ-ফুর্তি করতে মাদক সেবনের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এমনকি যারা মাদক খায় না, তারাও এই জোয়ারে গা ভাসানোর চেষ্টা করে। আর প্রশাসনও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের ধরতে বা গ্রেফতার করতে কিছুটা দ্বিধাবোধ করে। কাজেই অন্য সব দলের চেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের সবার আগে সাবধান হতে হবে, আমরা কেউ মাদক সেবন বা ব্যবসার ধারেকাছেও যাব না।"
পুলিশ প্রশাসন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, "আপনাদের নিজেদের মাঝে যদি কোনো সর্ষের মধ্যে ভূত থাকে, তবে আগে সেই ভূত ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিন। যদি পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব কর্মকর্তারা সচেষ্ট, সৎ ও স্বচ্ছ না হন, তবে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা কখনোই সম্ভব না। আপনারা মাদকের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর পদক্ষেপ নেন, বিএনপি আপনাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।"
জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি লোকমান আহমেদ খান লোটনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন— জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সহিদুল হক খান দুলাল, লিয়াকত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম খান সজিব, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়াতেই মূলত মাদক ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে সমাজ ধ্বংসের কারবার চালায়। তাই সমাজকে বাঁচাতে রাজনৈতিক নেতাদের সবার আগে সতর্ক হতে হবে। দলীয় কোনো নেতাকর্মী যদি মাদকের সাথে সামান্যতম জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে সবার আগে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমাবেশের মূল পর্ব শেষে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি জামালপুর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বকুলতলা চত্বরে গিয়ে সমাপ্ত হয়। র্যালিতে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে অংশ নেন।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।