![]() |
| জামালপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় আসামী রাজিব হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ছবি: আসমাউল আসিফ |
জামালপুরে একই দিনে ট্রাইব্যুনালের বড় রায়: স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, ছাত্রীকে ধর্ষণে যাবজ্জীবন
জামালপুরে পৃথক দুটি মামলায় অপরাধীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করেছেন আদালত। স্ত্রীকে নিষ্ঠুরভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে এক স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড এবং দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই যুগান্তকারী রায় দুটি ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আলাল সেক (৫৩)। তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো. মজর উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রাজীব হোসেন (৩৮), তিনি একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার মামলা:
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী (পিপি) মো. ফজলুল হক মামলার বিবরণী দিয়ে জানান, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে গত ২০০৮ সালের ২৬ মে দিবাগত রাত থেকে ২৭ মে সকালের মধ্যে কোনো এক সময়ে আসামি আলাল সেক যৌতুকের দাবিতে তাঁর স্ত্রী নাইফুল বেগমকে অমানুষিক মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে নিষ্ঠুরভাবে স্ত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তাঁকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে ২০০৮ সালের ৫ জুন জামালপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক আজ এই রায় দেন। আসামি আলাল সেক বর্তমানে পলাতক থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতেই আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ এবং সাথে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। পলাতক থাকায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলা:
এদিকে, একই আদালতের বিচারক দশম শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় প্রতিবেশী রাজীব হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, গত ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামে ঘরের জানালা খুলে ওই মাদরাসা শিক্ষার্থীর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে লম্পট রাজীব হোসেন। একপর্যায়ে মেয়েটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিতার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রাজীবকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তবে সে উপস্থিত সবার সাথে ধস্তাধস্তি করে কৌশলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার ওই সাহসী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ১১ জুন দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ স্থানান্তরিত হওয়ার পর মোট ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আজ আসামি রাজীব হোসেনের উপস্থিতিতেই আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এই মামলায় আসামিপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।
বিজ্ঞ বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, সমাজে নারী ও শিশুদের ওপর এই ধরনের অপরাধ দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। অপরাধীদের এই কঠোর শাস্তি গ্রামীণ জনপদে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং ভুক্তভোগীদের মনে আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।