![]() |
| ১৮ বছর পর ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, রৌমারীতে খোলা আকাশের নিচে প্রবীণের পরিবার |
১৮ বছর পর ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ, খোলা আকাশের নিচে প্রবীণের পরিবার
“আমরা গরিব-অসহায় মানুষ। জায়গাটা কিনে ১৮ বছর ধরে মাথার ওপর একটু ছাদ বানিয়েছিলাম, সেটাও এক নিমেষে শেষ হয়ে গেল। প্রভাবশালী পক্ষ কোর্টের একতরফা রায় নিয়ে বাড়িটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আমার আর কোথাও এক ইঞ্চি জায়গা নেই; স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন বেরিবাঁধে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।”
কান্নাভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার হতদরিদ্র সাহেব আলী। গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) আদালতের আদেশের ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে তাঁর নির্মিত বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভাঙা ঘরের ধ্বংসাবশেষ বাঁধের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে, আর তা আঁকড়ে ধরেই এখন দিন পার করছে অসহায় পরিবারটি। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে বইছে সমালোচনা ও চাঞ্চল্য।
ঘটনাস্থল রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙা ইউনিয়নের (শালুর মোড়) ছোট কাউনিয়ারচর এলাকা। উচ্ছেদ হওয়া সাহেব আলী ওই এলাকার মৃত সমশের আলীর ছেলে।
মামলার বিবরণ, স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাউনিয়ারচর মৌজার এসএ ২৫১০ দাগের জমি পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে বিক্রি করেন জলিল মাস্টারের ছেলে মুকুল ও মেয়ে লাইজু। ২০১২ সালে ৮৫২ নম্বর রেজিস্ট্রি কবলা দলিল মূলে ৪.৫০ শতাংশ এবং অন্য আরেকটি দলিলে ৩.৩৩ শতাংশ—মোট ৭.৮৩ শতাংশ জমি কেনেন সাহেব আলী। জমিটি ক্রয়ের পর থেকে ১৮ বছর ধরে সেখানে ঘরবাড়ি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি।
তবে স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুর রহমান ও জাহাঙ্গীর গং ওই জমির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের একতরফা রায়ের প্রশাসনিক বাস্তবায়নে ওই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে পুরো বসতঘর ও স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়।
উচ্ছেদের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু মিয়া, সজিনা খাতুন ও কমলা খাতুন জানান, দীর্ঘ দুই দশক ধরে সাহেব আলী তাঁর পরিবার নিয়ে এই জমিতে বসবাস করছিলেন। হঠাৎ একদিন আদালতের লোক ও পুলিশ এসে বাড়িঘর উচ্ছেদ করে দেওয়ায় পুরো পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী সাহেব আলী বলেন, “বৈধ দলিলে জমি কিনে বাড়ি করেছিলাম। হঠাৎ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে দেওয়ায় আমার প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আমার থাকার কোনো স্থান নেই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, “আমি আগে উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে উচ্ছেদ করায় পরিবারটি আজ সম্পূর্ণ বাস্তুচ্যুত ও অসহায় হয়ে পড়েছে। সাহেব আলীর পরিবারকে মানবেতর জীবন থেকে বাঁচাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।