![]() |
| রৌমারীতে ধরণী নদীর ভাঙন ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের বান্ডাল নির্মাণ |
রৌমারীতে ধরণী নদীর ভাঙন ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের বান্ডাল নির্মাণ
সরকারি কোনো সহায়তা না পেয়ে অবশেষে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি রক্ষায় নিজেদের উদ্যোগেই ধরণী নদীর ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালাচ্ছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাসিন্দারা।
উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী এলাকায় ধরণী নদীতে স্বেচ্ছাশ্রম ও স্থানীয়দের অর্থায়নে গত এক সপ্তাহ ধরে নির্মাণ করা হচ্ছে বাঁশের বান্ডাল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আসাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতে বর্ষা মৌসুমে ধরণী নদী রুদ্ররূপ ধারণ করে। প্রতি বছর নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হচ্ছে শত শত একর আবাদি জমি ও বসতবাড়ি, নিঃস্ব হচ্ছে বহু পরিবার। মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে বড়াইবাড়ী এলাকাটি। ভাঙনরোধে সরকারিভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহমেদের উদ্যোগে গ্রামবাসী বাঁশ, নগদ টাকা ও শ্রম দিয়ে এগিয়ে আসেন। বর্তমানে নদীর প্রায় ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যে ৭টি বাঁশের বান্ডাল নির্মাণের কাজ চলছে।
এলাকাবাসীর মতে, এই বাঁশের বান্ডাল দেওয়ার পর চলতি বছর নদীভাঙনের তীব্রতা অনেকটাই কমেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু জাফর আলী ও মোহাম্মদ আলী জানান, গত কয়েক বছরে তাঁদের একর একর জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে গেছে। নিজেদের সহায়তায় নির্মিত এই বান্ডালের কারণে এবার সাময়িকভাবে ভাঙন থামলেও স্থায়ী বাঁধ না হলে বড়াইবাড়ী গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবারের দুই হাজার মানুষ চরম ঝুঁকিতে থাকবেন।
এ ছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় বাজার, মসজিদ, বড়াইবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিজিবি ক্যাম্প, ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থান।
উদ্যোক্তা ফারুক আহমেদ বলেন, “বাপ-দাদার সাত একর জমির মধ্যে ভাঙতে ভাঙতে এখন শুধু বসতভিটাটুকু অবশিষ্ট আছে। গ্রামবাসী মিলে বান্ডাল দেওয়ার পর এবার ভাঙন কিছুটা রক্ষা পেয়েছে। তবে ভিটেমাটি স্থায়ীভাবে বাঁচাতে সরকারি বাঁধের বিকল্প নেই।”
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ জানান, পাহাড়ি ঢলের পানির চাপ সামলাতে এখানে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ দরকার। গ্রামবাসী সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকাতে বান্ডাল তৈরি করে প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।