![]() |
| অফিসে আসেন না সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা, জামালপুর শিল্পকলা একাডেমীতে নেমে এসেছে স্থবিরতা |
অফিসে আসেন না সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা, জামালপুর শিল্পকলা একাডেমীতে নেমে এসেছে স্থবিরতা
জামালপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর স্থবিরতায় শিল্প-সংস্কৃতির লালন ও চর্চাকেন্দ্রে নেমে এসেছে শুনশান নীরবতা। সিংহজানী উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের পাশে অবস্থিত সুবিশাল ভবনে দিনের বেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো দেখা মেলে না। অভিযোগ উঠেছে, জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস দিনের বেলায় কখনোই অফিসে আসেন না। উল্টো সেবা নিতে এসে তীব্র হয়রানির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দিনে অফিস সচল থাকার কথা থাকলেও দুপুর হতেই শিল্পকলায় নেমে আসে ভূতুড়ে পরিবেশ। কর্মরত জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস মাঝেমধ্যে গভীর রাতে অফিসে আসেন, কিন্তু দিনের বেলা তিনি অনুপস্থিত থাকেন। কর্মকর্তা না থাকায় অন্য কর্মচারীরাও অফিসে থাকেন না, কক্ষগুলো থাকে তালাবদ্ধ। ফোনে যোগাযোগ করা হলেও অধিকাংশ সময় সাড়া মেলে না।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের অভিযোগ, সরকারি অনুদান পেতে শর্ত না থাকলেও ইচ্ছেকৃতভাবে আবেদনের কাগজ সত্যায়িত করার নিয়ম চালু করে সবাইকে বিভ্রান্ত ও হয়রানি করা হয়েছে। ফলে কর্মকর্তা স্বাক্ষরের জন্য অনুপস্থিত থাকায় জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়াই আবেদন জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন শিল্পীরা। এছাড়া সরকারি অনুদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রকৃত প্রতিভাবান শিল্পীদের বাদ দিয়ে নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি পকেট সংগঠনকে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এমনকি জেলা প্রশাসনের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে মাঝপথে অনুষ্ঠান ত্যাগ করার মতো বিশৃঙ্খল ঘটনাও ঘটিয়েছেন এই কর্মকর্তা। সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় না থাকায় দর্শক শূন্য কক্ষে সীমিত পরিসরে সারতে হচ্ছে সরকারি আয়োজনগুলো। সুশাসনের অভাবে এক বছরে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ১৬৩ জন থেকে কমে মাত্র ১২২ জনে নেমে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাডেমীর একাধিক কর্মচারী জানান, স্যার মাসে ৩-৪ দিনের বেশি আসেন না, আর এলেও তা রাতে। জাসাস জামালপুরের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন সারগাম ও প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী জানান, কর্মকর্তার অযোগ্যতা ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে জামালপুরের পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গন ভেস্তে যেতে বসেছে। তাঁরা অবিলম্বে শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তমাল বোস জানান, "আমি অফিসেই থাকি। জামালপুরের সব সংগঠনের সাথেই আমার ভালো সম্পর্ক আছে। অভিযোগ থাকলে তাঁকে সন্ধ্যার পর আমার অফিসে নিয়ে আসুন।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।