![]() |
| রৌমারীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক, পুলিশে না দিয়ে সালিশে ছাড়লেন মাতাব্বররা |
রৌমারীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক, পুলিশে না দিয়ে সালিশে ছাড়লেন মাতাব্বররা
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ না করে, বেআইনি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলোও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি, যা বর্তমানে এক মাতাব্বরের জিম্মায় রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে মাদক কারবারিদের এভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার যাদুর চর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বিকরিবিল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সালিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে বিকরিবিল গ্রামের একটি চক্র সীমান্ত এলাকা থেকে আনা ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন ও বেচাকেনা করছিল। বিষয়টি টের পেয়ে গ্রামের কয়েকজন তরুণ তাদের ধাওয়া করে। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তিন মাদক কারবারিকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটকে ফেলেন গ্রামবাসীরা। আটককৃতরা হলেন— বিকরিবিল গ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে ইয়াছিন আলী (২২), আফজাল হোসেনের ছেলে বকুল হোসেন (২৫) ও কালু শেখের ছেলে জাকির হোসেন (২৬)।
মাদকসহ তিন যুবক আটকের পর রাতেই বিকরিবিল গ্রামে আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে তড়িঘড়ি করে এক সালিশি বৈঠক বসানো হয়। সালিশটি পরিচালনা করেন সাবেক ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ। বৈঠকে স্থানীয় মাতাব্বর ও পল্লী চিকিৎসক আব্দুল বাতেনের উপস্থিতিতে আটককৃতদের দেহ তল্লাশি করে ৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আইন অনুযায়ী উদ্ধারকৃত মাদক ও আসামিদের পুলিশে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, মাতাব্বররা নিজেদের মতো করে রায় ঘোষণা করেন। ইয়াবা কেনাবেচা ও সেবনের অপরাধে জনসম্মুখে ওই তিন যুবককে কান ধরে ওঠবোস ও বেত্রাঘাত করা হয়। বেত্রাঘাতের একপর্যায়ে যুবকেরা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া ৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর না করে মাতাব্বর আব্দুল বাতেন নিজের কাছে রেখে দেন।
ইয়াবা ট্যাবলেট নিজের কাছে জমা রাখার কথা অকপটে স্বীকার করে মাতাব্বর আব্দুল বাতেন বলেন, “ছেলেরা যাতে ভবিষ্যতে আর মাদক ব্যবসা ও সেবন না করে, সেজন্য সমাজের পক্ষ থেকে আমরা তাদের একটু শাসন করেছি এবং ইয়াবাগুলো আমার কাছে রেখেছি।”
সালিশ পরিচালনাকারী সাবেক ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ জানান, “মাদক কারবারিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করায় সমাজের নিয়মে তাদের শাস্তি দিয়ে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” সালিশি বৈঠকের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “প্রথমবার হিসেবে আমরা তাদের শাসন করে ছেড়ে দিয়েছি। ভবিষ্যতে এমন করলে পুলিশের সহায়তা নেওয়া হবে।”
মাদকের মতো একটি ফৌজদারি অপরাধের আসামিদের আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে মাতাব্বরদের এভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং আলামত জিম্মায় রাখার বিষয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলী বলেন, “বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। মাদকের ক্ষেত্রে সালিশ করার বা আলামত নিজের কাছে রাখার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দোষী মাদক কারবারি এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া মাতাব্বরদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।