![]() |
| রৌমারীতে ১১ কোটির ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে দুর্ভোগ, ঝুঁকিতে যানবাহন |
রৌমারীতে ১১ কোটির ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে দুর্ভোগ, ঝুঁকিতে যানবাহন
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি নতুন পাকা ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজের দুই পাশের মাটি ধসে বড় বড় গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত এই সংযোগ সড়ক সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) যাদুর চর ইউনিয়নের কাশিয়াড়বাড়ী গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এই ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, কাশিয়াড়বাড়ী গ্রাম সংলগ্ন খালের ওপর ৯৬ মিটার দীর্ঘ এই পাকা ব্রিজটি নির্মাণের কার্যাদেশ লটারির মাধ্যমে পায় জামালপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এমইএম এন্টারপ্রাইজ’, যার স্বত্বাধিকারী মো. সামসুদ্দিন দিলিপ। পুরো প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় বা বরাদ্দ ছিল প্রায় ১১ কোটি টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিজের মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতির কারণে সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়নি। এছাড়া ব্রিজের দুই মাথার স্লোপে প্রতিরক্ষামূলক ‘রিটার্নিং ওয়াল’ (গাইড ওয়াল) নির্মাণ না করেই কাজ ফেলে চলে যান ঠিকাদার। এই অসমাপ্ত কাজের বিষয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীকে জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণে বৃষ্টির পানির স্রোতে ব্রিজের দুই মাথার সংযোগ সড়কের সিংহভাগ মাটি ধসে গিয়ে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে এই ভাঙা অংশ দিয়ে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও অটোভ্যানসহ বিভিন্ন হালকা যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই খাদের গর্তে পড়ে এক বৃদ্ধের পা ও কোমর ভেঙে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
কাশিয়াড়বাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, “ব্রিজের কাজ শেষ হলেও রাস্তার কাজ বাকি রেখেই ঠিকাদার চলে গেছেন। বৃষ্টির পানিতে রাস্তা ভেঙে বড় গর্ত হওয়ায় এখন আর কোনো গাড়ি ঠিকমতো চলতে পারছে না। পথচারীরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এখানে দ্রুত মাটি ভরাট ও গাইড ওয়াল দেওয়া জরুরি।”
কাজের অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে রৌমারী উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জমির মালিকদের আপত্তির কারণে ব্রিজের দুই পাশের শেষ মাথায় রিটার্নিং ওয়ালের কাজ পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ঠিকাদারের সাথেও কথা হয়েছে, আশা করছি খুব দ্রুতই তারা পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করবেন।”
তবে সংযোগ সড়কটি এভাবে ফেলে রাখার বিষয়ে বক্তব্য জানতে রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার বিশ্বাসের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন বলেন, “কাশিয়াড়বাড়ী ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ার সমস্যার বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আমি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছি।”







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।