![]() |
| রৌমারী সীমান্তে নারী-শিশুসহ ৯ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি’র তীব্র প্রতিরোধে বৈঠক নিষ্ফল |
রৌমারী সীমান্তে ৯ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা: বিজিবি’র তীব্র প্রতিরোধে পতাকা বৈঠক নিষ্ফল, উত্তেজনা
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ৯ জন ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন (জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ) করার অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর তীব্র প্রতিরোধ ও অনড় অবস্থানের কারণে বিএসএফ-এর সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পুশইনের শিকার ওই নাগরিকেরা বর্তমানে সীমান্তের নো-ম্যানসল্যান্ডে (শূন্য রেখা) চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন, যার ফলে পুরো সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিজিবি ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (১৪ জুন) ভোররাতে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের সন্নিকট দিয়ে ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের ঝালোড়চর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ১ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশুসহ মোট ৬ জন নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে গয়টাপাড়া বিওপি’র বিজিবি জওয়ান ও স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তে লাঠিসোঁটা নিয়ে শক্ত অবস্থান নেন এবং তীব্র বাধা প্রদান করেন। বিজিবি’র কঠোর অবস্থানের মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।
অন্যদিকে, একই সময়ে উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৫ নম্বর পিলারের দক্ষিণ পাশ দিয়ে আরও ৩ জন ভারতীয় নাগরিককে একইভাবে পুশইন করার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সেখানেও বিজিবি’র কঠোর বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্ত রেখায় থমকে দাঁড়ায়।
সীমান্তের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রবিবার সকাল ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী দুই দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এক জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন। অপরদিকে, ভারতীয় বিএসএফ-এর ঝালোড়চর ক্যাম্পের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষ থেকে অবৈধ পুশইনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওই নাগরিকদের দ্রুত ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানালে দীর্ঘ আলোচনাও কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিষ্ফলভাবে শেষ হয়। বিজিবি ও বিএসএফ-এর নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকার কারণে পুশইনের শিকার ওই ৯ জন নাগরিক বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে সীমান্তের নো-ম্যানসল্যান্ডে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ভোররাত থেকেই সীমান্তে বিএসএফ-এর পুশইনের চেষ্টা নিয়ে উত্তেজনা চলছে। গ্রামবাসী ও বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"
জামালপুর ৩৫ বিজিবি’র অধীনস্থ গয়টাপাড়া বিওপির সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "ভোররাতে ভারতের ঝালোড়চর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা অবৈধভাবে পুশইনের অপচেষ্টা চালিয়েছিল। বিজিবি’র তীব্র প্রতিরোধের কারণে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি। সীমান্ত সুরক্ষায় আমাদের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।