রৌমারীতে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা: বাবার ওপর অভিমান করে মাদরাসা ছাত্রীর আত্মহত্যা
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় জোরপূর্বক বাল্যবিয়ে দেওয়ার চেষ্টার জেরে বাবার ওপর অভিমান করে মাহফুজা আক্তার (১৩) নামের এক কিশোরী ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত মাহফুজা স্থানীয় নুরপুর রহমানিয়া দারুসুন্নাহ দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী ছিল। রবিবার (১৪ জুন) সকাল সোয়া ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরবামনের চর গ্রামে এই অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মাহফুজা আক্তার রৌমারী সদর ইউনিয়নের চরবামনের চর গ্রামের দিলবর হোসেনের কন্যা।
পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কিশোরী মাহফুজার বয়স মাত্র ১৩ বছর হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা দিলবর হোসেন সম্প্রতি ঢাকায় এক বয়স্ক লোকের সাথে তার বিয়ে দেওয়ার জোর প্রস্তুতি নেন। কিন্তু এত অল্প বয়সে বিয়ে করতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানায় মাহফুজা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাবা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মানসিক নির্যাতন করেন।
বাবার দেওয়া এই অপমান ও জোর করে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহ্য করতে না পেরে পরিবারের সবার অজান্তে নিজ শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় মাহফুজা। পরে ঘরের আড়ার (ধরনা) সাথে ওড়না পেঁচিয়ে সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। কিছুক্ষণ পর ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে মাহফুজার ছোট ভাই ফরিজুল হক (৮) চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে তাঁরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মাহফুজাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খবর পেয়ে রৌমারী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার অভিযোগ না থাকায় এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বিশেষ সুপারিশের কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করার অনুমতি দেয় পুলিশ।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাবার ওপর অভিমান করেই এই কিশোরীটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। যেহেতু পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির লিখিত সুপারিশ ছিল, তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ দাফনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।