শফিকুল ইসলাম, রৌমারী: কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় তীব্র লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ২২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
![]() |
| রৌমারী-রাজীবপুরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ৬৭ হাজার গ্রাহক, প্রতিবাদের পরও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের |
ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত রৌমারী-রাজীবপুরের জনজীবন: ক্ষোভ বাড়ছে গ্রাহকদের
চলমান ভয়াবহ লোডশেডিং ও তীব্র লো-ভোল্টেজের কারণে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। বিদ্যুতের এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে; পাশাপাশি ঘন ঘন ট্রিপ ও লো-ভোল্টেজের কারণে ফ্রিজ, টিভি, ফ্যানসহ বাসাবাড়ির মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী অকেজো হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন চারটি উপজেলার মধ্যে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক ও বৈষম্যমূলক। এই দুই উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৬৭ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন, যাঁরা গত দেড় মাস ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন।
রৌমারী উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা নুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিদিন রাতে ও দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। গত দেড় মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে শেষ রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। গরমে ঘুমানো তো দূরের কথা, আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।"
চান্দার চর গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ মিয়া বলেন, "সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ পাওয়া যেন লটারি পাওয়ার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের বেলাতেও বার বার লাইন যায়। আর একবার বিদ্যুৎ গেলে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টার আগে আসার নাম থাকে না।"
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের জীবিকায়। নওদাপাড়া এলাকার রাশেদা বেগম জানান, "ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের আয়ের পথ বন্ধ হতে চলেছে। ঠিকমতো বিদ্যুৎ না থাকায় অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গাড়ি নিয়ে বের হওয়া যাচ্ছে না।" এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিদ্যুতের এই চরম অব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত সরবরাহের দাবিতে রৌমারী ও রাজীবপুরের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসলেও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কোনো টনক নড়েনি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রৌমারী জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ২২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি ঘাটতি থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, জামালপুর ও শেরপুর অঞ্চলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও রৌমারী-রাজীবপুর অঞ্চলকে চরম অবহেলার শিকার বানানো হচ্ছে।
উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক বলে স্বীকার করেছেন রৌমারী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, "এই দুই উপজেলায় আমাদের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬৭ হাজার। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় মাঠ পর্যায়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বেড়েছে। এই সংকটের বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করছি, আগামী কিছুদিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে।" তবে কবে নাগাদ এই বিদ্যুৎ বিপর্যয় থেকে মুক্তি মিলবে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারছেন না সাধারণ গ্রাহকেরা।
সূত্র: সেবা হট নিউজ — সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের ফলো করুন:
লোডশেডিং নিয়ে আরও পড়ুন





খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।