![]() |
| বকশীগঞ্জে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে এক লাখ গ্রাহকসহ সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি! |
বকশীগঞ্জে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে এক লাখ গ্রাহক: অতিষ্ঠ জনজীবন
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় চলমান ভয়াবহ লোডশেডিং ও খামখেয়ালি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের আওতায় থাকা প্রায় এক লাখ গ্রাহকের জনজীবন চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। চলমান তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তাও একটানা থাকে না, ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পরই চলে যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।
বকশীগঞ্জ পৌর এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় ব্যাপক ধস নেমেছে। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবা, ফ্রিজনির্ভর ব্যবসা, কম্পিউটার ও অনলাইনভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেচাবিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ সংকটের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলো সময়মতো চার্জ দিতে পারছেন না চালকরা। অটোরিকশা চালক ইসমাইল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কারেন্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে থাকে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। তাও ১৫-২০ মিনিট পর পরই চলে যায়। এভাবে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করা সম্ভব হয় না। গাড়ি চার্জ না হওয়ায় রাস্তায় অটোরিকশা চলাচল কমে গেছে, বাধ্য হয়ে পেটের দায়ে ভাড়া কিছুটা বাড়াতে হয়েছে।" এদিকে গণপরিবহন সংকটে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যয় ও ভোগান্তি দুই-ই বেড়ে গেছে।
এছাড়া বকশীগঞ্জের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রমও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও কম্পিউটারনির্ভর কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ সাব-স্টেশনের আওতায় বর্তমানে প্রায় ৯৮ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এই বিশাল গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৮ থেকে ২৪ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়ে ঘনঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের বাসিন্দারা দ্রুত এই তীব্র বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আকবর হোসেন মিয়া পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের সাব-স্টেশনে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াটের ওপরে হলেও আমরা দৈনিক পাচ্ছি মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট, যার ফলে লোডশেডিং দিতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। তবে আশা করা যাচ্ছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।