লিয়াকত হোসাইন লায়ন: জামালপুরের বকশীগঞ্জ রামরামপুর সীমান্তে পুশইনের শিকার ও জিরো পয়েন্টে আটকে থাকা ৬৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে অবশেষে পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি ও পুলিশ।
বকশীগঞ্জ সীমান্তে পুশইনের শিকার সেই বৃদ্ধ উদ্ধার: বিজিবি ও পুলিশের উদ্যোগে পরিবারের কাছে হস্তান্তর
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের শিকার ৬৮ বছর বয়সী বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে অবশেষে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ও জামালপুর ৩৫ বিজিবি’র সদস্যরা যৌথভাবে ওই বৃদ্ধকে তাঁর বড় ভাই ভবানী বর্মনের হাতে তুলে দেন।
নিহত বা উদ্ধারকৃত ষষ্টি চন্দ্র বর্মন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার চান্দলাই এলাকার বাবু চন্দ্র বর্মনের ছেলে।
উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ষষ্টি চন্দ্র বর্মন গত দুই মাস আগে রাজশাহী থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন। গত বুধবার (১০ জুন) সকালে বকশীগঞ্জের রামরামপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৮২ নম্বর পিলারের কাছে তাঁকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
এ সময় বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তবাসীর তীব্র বাধার মুখে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হলে বৃদ্ধ ষষ্টি চন্দ্রকে সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো পয়েন্ট) ফেলে রেখে চলে যায় বিএসএফ সদস্যরা।
পরবর্তীতে পরিচয়হীন এই বৃদ্ধ বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়রা সীমান্ত সুরক্ষায় বাধা প্রদান করেন। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে দফায় দফায় পতাকা বৈঠক হলেও কোনো পক্ষই তাঁকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় সীমান্তে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিকেলে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে বাংলাদেশী নাগরিকদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ভারতীয়রা পালিয়ে যায়।
সীমান্তের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি শান্ত হলেও কোনো দেশে ঠাঁই না পেয়ে বুধবার সারারাত ও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে শূন্য রেখায় অবস্থান করতে হয় এই বৃদ্ধকে। এদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত বৃদ্ধের অসহায়ত্বের ভিডিও এবং ছবি দেখে রাজশাহীতে অবস্থানরত তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চিনতে পারেন। এরপরই তাঁরা দ্রুত জামালপুর ৩৫ বিজিবি’র সাথে যোগাযোগ করেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিজিবি ও পুলিশ সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী থেকে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে নিতে বকশীগঞ্জ থানায় ছুটে আসেন তাঁর বড় ভাই ভবানী বর্মন ও মেয়ে জামাই। এ সময় দীর্ঘ দুই মাস পর নিজের ভাইকে জীবিত ও সুস্থ শরীরে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন দুই ভাই।
থানায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা আইনি প্রক্রিয়া ও ডায়েরি সম্পন্ন করে বিকেলে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। বিকেল ৫টার দিকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে ষষ্টি চন্দ্র বর্মনকে নিয়ে তাঁর পরিবার রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের বড় ভাই ভবানী বর্মন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, "আমার ভাই দুই মাস আগে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। আমরা খুবই গরিব মানুষ, টাকা-পয়সা না থাকায় থানায় বা পুলিশের কাছে যেতে পারিনি। কাল আমার ছেলে ফেসবুকে একটা ভিডিও দেখে বলে যে কাকাকে জামালপুর সীমান্তে পাওয়া গেছে। পরে আমরা বিজিবির সাথে যোগাযোগ করি। আজ এখানে এসে আমার ভাইকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেলাম। আমরা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের কাছে কৃতজ্ঞ।"
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মকবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "সীমান্তে পুশইন ও দুই দেশের উত্তেজনা সৃষ্টির পর উদ্ধার হওয়া ষষ্টি চন্দ্র বর্মনের পরিবার আমাদের সাথে যোগাযোগ করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি বাংলাদেশী নাগরিক হওয়ায় আজ বিকেলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁকে তাঁর ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।"
সূত্র: সেবা হট নিউজ — সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের ফলো করুন:
পুশইন নিয়ে আরও পড়ুন





খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।