![]() |
| রৌমারী সীমান্তে পুশইনের অপচেষ্টা: বিজিবি ও লাঠিসোঁটা হাতে গ্রামবাসীর অবস্থানে ব্যর্থ বিএসএফ |
রৌমারী সীমান্তে পুশইনের অপচেষ্টা: বিএসএফ-এর আলো নেভানো মিশন ব্যর্থ করল বিজিবি ও লাঠিসোঁটা হাতে গ্রামবাসী!
ভারতের আসাম রাজ্য থেকে মুসলিম নাগরিকদের ট্রাকে ও গাড়িতে করে এনে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে। বিএসএফ-এর এই আকস্মিক পুশইন প্রচেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে সীমান্ত জুড়ে চরম উত্তেজনা ও গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে মাতৃভূমির সুরক্ষায় বিজিবি’র পাশাপাশি লাঠিসোঁটা হাতে দিন-রাত সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় পুরুষরা, আর নারী ও শিশুদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে রৌমারী উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভুন্দুর চর, চর নতুন বন্দর, চান্দার চর ও নওদাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬৩ থেকে ১০৬৬ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় বিএসএফ। ভারতের অভ্যন্তরে থাকা নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রব্বানী জানান, ভারতের আসাম রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশুদের ধরে এনে ভারতীয় সীমান্ত ক্যাম্পগুলোতে জড়ো করা হচ্ছে এবং সুযোগ বুঝে বাংলাদেশে পুশইন করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বিএসএফ।
এর আগে গত শনিবার রাতেও একই সীমান্তের ‘সুদুরটিলা’ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ট্রাকে করে বেশ কিছু মানুষকে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে নিয়ে আসে। রাতের অন্ধকারে তাদের পুশইন করার চেষ্টা করা হলে সীমান্ত এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিক শক্ত অবস্থান নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সীমান্তের সাধারণ মানুষও বিজিবি’র সমর্থনে লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে আসেন। বিজিবি ও এলাকাবাসীর এই অনড় অবস্থান দেখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শফিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "সোমবার রাতে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের সব লাইট বন্ধ করে দিয়ে কিছু মানুষকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নামানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ এবং শক্ত অবস্থানের মুখে তারা সফল হতে পারেনি। রবিবার রাতেও তারা একই চেষ্টা চালিয়েছিল। বর্তমানে বিজিবি’র পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অন্তর্গত বাংলাবাজার বিওপি’র সুবেদার আলতাফ হোসেন বলেন, "সীমান্তের ওপারে বিএসএফ ক্যাম্পে লোকজনকে ধরে এনে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে—এমন তথ্যের পর আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। গ্রামবাসীসহ আমরা সীমান্তে শক্ত অবস্থান নিয়েছি, কোনোক্রমেই অবৈধ পুশইন হতে দেওয়া হবে না।" জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "আমাদের কিছুটা সীমাবদ্ধতা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গ্রাম পুলিশ ও আনসার ভিডিপির সদস্যরা সহযোগিতা করলে টহলের আরও সুবিধা হতো। তবে সীমান্ত আপাতত শান্ত রয়েছে।"
এদিকে, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বারবার এমন পুশ-ইন ও সীমান্ত হত্যার অপচেষ্টা রুখতে বিজিবি’র পক্ষ থেকে বিএসএফ-কে কড়া বার্তা দেওয়া হবে বলে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।