রৌমারীতে দুই সন্তানের জননীর রহস্যজনক মৃত্যু: পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ স্বজনদের
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পারিবারিক কলহের জের ধরে হোসনে আরা বেগম (২৬) নামের দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) দুপুরের দিকে রৌমারী উপজেলার যাদুর চর ইউনিয়নের ধনারচর টাংরাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ হাসপাতাল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করেছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে।
নিহত হোসনে আরা বেগম রাজিবপুর উপজেলার মুন্সিপাড়া গ্রামের হাছেন আলীর মেয়ে।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭ বছর আগে রাজিবপুরের হোসনে আরার সাথে রৌমারীর টাংরাপাড়া গ্রামের সুরুত আলীর ছেলে খুশী আলমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের প্রথম কয়েক বছর ভালো কাটলেও সম্প্রতি পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন রবিবার দুপুরে হোসনে আরার স্বামী ও তার মামী তড়িঘড়ি করে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে তারা দাবি করেন, হোসনে আরা ঘরের ভেতর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হোসনে আরাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাবার বাড়ির স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন। নিহতের শরীরের বিভিন্ন দাগ দেখে স্বজনদের অভিযোগ, হোসনে আরাকে পিটিয়ে হত্যা করার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে রৌমারী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে নিহতের লাশ হেফাজতে নেয়।
হাসপাতালে উপস্থিত নিহতের স্বামী খুশি আলমকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, "আমি বাড়ির উঠানে মামী শাশুড়ির সাথে কথা বলছিলাম। আমার স্ত্রী ঘরের ভেতরে ছিল। হঠাৎ ঘর থেকে বাচ্চার কান্নার শব্দ শুনে আমরা দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাই। পরে মামীসহ আমি ঘরের ছিটকিনি ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখি আমার স্ত্রী ফাঁসিতে ঝুলছে। তখন আমরা দ্রুত তাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসি।"
এ বিষয়ে যাদুর চর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী জানান, "আমি লোকমুখে শুনেছি যে ওই নারীকে তার স্বামী প্রায়ই নির্যাতন করতো। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ছাড়া বোঝা যাচ্ছে না। আমি ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।"
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলী বলেন, "লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) রাশেল কবীর জানান, "খবর পাওয়ার পর আমি নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।