অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: ক্ষুদ্র আমানতকারী ও মধ্যবিত্তদের স্বস্তি দিয়ে ব্যাংকে আবগারি শুল্কের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা এবং ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা পৌনে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
| ||
| বাজেট ২০২৬: ব্যাংকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক মুক্ত, করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে পৌনে ৪ লাখ |
বাজেট ২০২৬: ব্যাংকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক মুক্ত, করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে পৌনে ৪ লাখজাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে ক্ষুদ্র আমানতকারী এবং মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের করদাতাদের বড় ধরনের স্বস্তি দিয়ে ব্যাংকে জমা টাকার আবগারি শুল্কের সীমা এবং ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
ব্যাংকের জমা টাকায় আবগারি শুল্কের নতুন সীমা:
এতদিন ব্যাংক হিসাবে বছরের যেকোনো সময় ৩ লাখ টাকা থাকলে আবগারি শুল্ক দিতে হতো। ক্ষুদ্র আমানতকারীদের স্বস্তি দিতে এবার এই সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৬ সালে আপনার ব্যাংক হিসাবে যদি কোনো এক সময়ে ৪ লাখ টাকার কম থাকে, তবে কোনো আবগারি শুল্ক কাটা হবে না। তবে হিসাবের স্থিতি ৪ লাখ টাকা বা তার বেশি হলে বছরে একবার আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে। সাধারণত ব্যাংকগুলো প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাসে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে এই শুল্ক কেটে রাখে। এছাড়া একটি ঋণ হিসাবের (Loan Account) বিপরীতে শুধু একবারই আবগারি শুল্ক কাটা হবে।
করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে পৌনে ৪ লাখ টাকা:মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পৌনে ৪ লাখ (৩ লাখ ৭৫ হাজার) টাকা করা হয়েছে। শুধু আগামী অর্থবছরই নয়, ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও এই পৌনে চার লাখ টাকার করমুক্ত সীমা অব্যাহত থাকবে।
এর পাশাপাশি বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের জন্য এই সুবিধা আরও বাড়ানো হয়েছে:নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী করদাতা: সোয়া ৪ লাখ টাকা।
তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতা: ৫ লাখ টাকা।
গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর আহত 'জুলাই যোদ্ধা': সোয়া ৫ লাখ টাকা।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতা-মাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তান বা পোষ্যের জন্য এই সীমা আরও ৫০ হাজার টাকা বেশি হবে।
বাদ যাচ্ছে ৫ শতাংশ করের ধাপ, বাড়ছে করের চাপ:
এবার আয়করের হারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমার পরবর্তী প্রথম ১ লাখ টাকার ওপর যে ৫ শতাংশ কর ছিল, তা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে করমুক্ত সীমার ওপরে যাঁদের আয়, তাঁদের সরাসরি ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী— পরবর্তী ৩ লাখ টাকার ওপর ১০%, পরবর্তী ৪ লাখের ওপর ১৫%, পরবর্তী ৫ লাখের ওপর ২০%, পরবর্তী ২০ লাখের ওপর ২৫% এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০% হারে করারোপ করা হয়েছে। এর ফলে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর করের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে।
সারা বছর দেওয়া যাবে রিটার্ন, আগে দিলে ছাড়:আগামী অর্থবছর থেকে করদাতারা সারা বছরই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে অর্থবছরের প্রথম দিকে রিটার্ন দিলে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে:
জুলাই-সেপ্টেম্বর (প্রথম প্রান্তিক): রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ২৫ হাজার টাকা (যেটি কম) ছাড় পাবেন।
অক্টোবর-ডি (দ্বিতীয় প্রান্তিক): কোনো ছাড় বা জরিমানা ছাড়াই স্বাভাবিক কর দেওয়া যাবে।
জানুয়ারি-মার্চ (তৃতীয় প্রান্তিক): পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা বা অতিরিক্ত দিতে হবে।
এপ্রিল-জুন (চতুর্থ প্রান্তিক): পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকা (যেটি বেশি) অতিরিক্ত গুণতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ টিআইএন (TIN) ধারী থাকলেও মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ মানুষ রিটার্ন দেন। মে মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছানোয় মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে করমুক্ত আয়সীমা ও আবগারি শুল্কের সীমা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।
সূত্র: সেবা হট নিউজ — সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।