লিয়াকত হোসাইন লায়ন: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় যমুনা নদীর অসময়ের তীব্র ভাঙনে পূর্ব মন্নিয়া গ্রামের শতাধিক বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল, মসজিদ ও ৮ কোটি টাকার সোলার প্যানেল।
যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন শতাধিক বসতবাড়ি: অস্তিত্ব সংকটে ৭০ বছরের পুরোনো দ্বীপচর মন্নিয়া
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অসময়ে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। গত কয়েকদিনের তীব্র ভাঙনে ইতিমধ্যে উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পূর্ব মন্নিয়া গ্রামের শতাধিক বসতভিটা এবং কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভাঙনের মুখে চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরই এই ইউনিয়নের চর মন্নিয়া গ্রামটির একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এবার নতুন করে শুরু হওয়া এই আগ্রাসী ভাঙনে পূর্ব মন্নিয়া গ্রামটির আজিল্লা মাঝি, নিদেনু শেখ, জয়নাল হাওয়াদার, সিদ্দিক শেখ, নহরুদ্দিন, লালমিয়া, সামাদ দোকানদার, হাজের আলী, আসাদ আলী, মুছা শেখ, কছির মন্ডল ও হকমিয়ার পরিবারসহ প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি নদী গ্রাস করেছে।
বর্তমানে তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক এবং সরকারের প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সোলার প্যানেলসহ নানা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে ৭০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দ্বীপচর মন্নিয়া গ্রামটি।
ভাঙন রোধে সরকারি কোনো তাৎক্ষণিক সহায়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নেমেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে বাঁশ ও বালির বস্তা দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাক্ষসী যমুনা প্রতি বছর আমাদের নিঃস্ব করছে।
বিগত দিনে নদী ভাঙন রোধের দাবিতে আমরা কয়েক গ্রামের মানুষ মিলে মানববন্ধন করলেও কোনো প্রতিকার পাইনি। এবারও চোখের পলকে শতাধিক বাড়ি শেষ হয়ে গেল। তাই জানমাল বাঁচাতে আমরা নিজেরাই টাকা তুলে বাঁশের বাঁধ দিচ্ছি।"
মন্নিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "যেভাবে ভাঙন ধেয়ে আসছে, জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে কয়েক দিনের মধ্যেই এই অঞ্চলের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী উচ্চ বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। আর এটি হলে পুরো চরাঞ্চলের শিক্ষার আলো চিরতরে নিভে যাবে।" অন্যদিকে, দক্ষিণ মন্নিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার খানাম জানান, তাঁর স্কুল থেকে মাত্র কয়েকশত গজ দূরে নদী চলে এসেছে। শতাধিক শিক্ষার্থীর সুরক্ষায় তাঁরা এখানে স্থায়ী বাঁধ চান।
বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক আকন্দ এবং সাবেক ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম জানান, এই অসময়ের ভাঙন চরাঞ্চলের মানুষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। এখানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান বলেন, "যমুনার চর অত্যন্ত বিশাল একটি এলাকা। এখানে অল্প কিছু জিও ব্যাগ বা ডাম্পিং করে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য একটি বৃহৎ ও স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। আমরা দ্রুত পুরো এলাকা সমীক্ষা করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণের ব্যবস্থা করছি।"
সূত্র: সেবা হট নিউজ — সত্য প্রকাশ্যে আপোষহীন
সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের ফলো করুন:
ইসলামপুর নিয়ে আরও পড়ুন







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।