![]() |
| রৌমারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ওষুধ ও মোবাইলসহ ৭টি দোকান পুড়ে ছাই, দেড় কোটি টাকার ক্ষতি! |
রৌমারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৭টি দোকান পুড়ে ছাই, প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র রৌমারী বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাজারের দুটি বড় জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ফার্মেসী, মোবাইল, কম্পিউটার ও মনোহারি দোকানসহ সাতটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) ভোররাতে রৌমারী বাজারের 'ভোলার মোড়' এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে বাজারের পথচারীরা হঠাৎ 'সালমান মেডিকেল হল' নামের একটি ওষুধের দোকান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা বের হতে দেখেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে তা চারপাশের অন্যান্য দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পথচারী ও স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে কর্তিমারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় দীর্ঘ সময় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে তার আগেই ৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য ও প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী আগুনে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ:
রুহুল আমিনের ওষুধের দোকান: প্রায় ১৮ লাখ টাকা।
ফজলুর রহমানের মনোহারি দোকান: প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
সাজ্জাদ হোসেন বিদ্যুতের মোবাইলের দোকান: প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
আকবর আলীর মনোহারি দোকান: প্রায় ১০ লাখ টাকা।
নাহিদ হাসানের ফটোকপি ও কম্পিউটার দোকান: প্রায় ৫ লাখ টাকা।
আব্দুর রউফের মনোহারি দোকান: প্রায় ৫ লাখ টাকা।
অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত 'সালমান মেডিকেল হল'-এর মালিক মো. আব্বাস আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আগুনে আমার দোকানে থাকা সমস্ত জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, আসবাবপত্র, ফ্রিজ এবং ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি 'বাকির খাতা'সহ সবকিছু পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। এতে আমার প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। নিজের সব হারানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি ও পাইকাররা আমার কাছে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা পাবেন। আমি এখন নিঃস্ব।"
কর্তিমারী ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক আলামত দেখে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটেছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন, রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "আগুনের খবর শোনার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। আগুনে ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর সঠিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।