![]() |
| দালালের খপ্পরে পড়ে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে বিক্রি! ড্রোন হামলায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জের মফিজ |
রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি: ড্রোন হামলায় নিহত মাদারগঞ্জের মফিজ, পরিবারে আহাজারি
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং সুখের আশায় বুক বেঁধে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর রাশিয়ায়। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি, দালালের নির্মম প্রতারণার শিকার হয়ে অবশেষে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারাতে হলো জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের যুবক মফিজ মিয়াকে (২৩)। দীর্ঘ ১৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর ইউক্রেন সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন হামলায় তাঁর নিহতের খবর পৌঁছায় গ্রামের বাড়িতে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মফিজের পরিবারে চলছে বুকফাটা আর্তনাদ ও আহাজারি। পুরো গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের মাতম।
নিহত মফিজ মিয়া মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের চরগুজামানিকা চাইলেনিপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ মে চাঁদপুর জেলার এক প্রভাবশালী দালালের মাধ্যমে জীবিকার সন্ধানে ১২ লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় যান মফিজ। সেখানে ভালো বেতনে রাজমিস্ত্রির কাজ দেওয়ার কথা ছিল ওই দালাল চক্রের। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর পরই মফিজকে রাজমিস্ত্রির কাজে না পাঠিয়ে সরাসরি ইউক্রেন সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠায় রুশ কর্তৃপক্ষ। পরিবারের অভিযোগ, ওই আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী দালাল চক্রটি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মফিজকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে বিক্রি করে দিয়েছিল।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ২৯ মে মফিজের সঙ্গে সর্বশেষ মুঠোফোনে কথা হয় পরিবারের। এরপর থেকেই তাঁর ব্যবহৃত ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারসহ সকল যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৭ দিন তাঁর কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিল। অবশেষে বিশেষ মাধ্যমে তাঁর ড্রোন হামলায় মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয় পরিবার।
রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর মফিজ বাড়িতে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন জানিয়ে তাঁর স্বজনরা বলেন, "মফিজ ফোন করে বলেছিল, তাকে যে কাজের কথা বলে নেওয়া হয়েছিল সেই কাজ দেওয়া হয়নি। জোর করে যুদ্ধের মাঠে পাঠানো হয়েছে। সে সবার কাছে শেষবারের মতো দোয়া চেয়েছিল।" এখন মফিজের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসী ওই প্রতারক দালাল চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ছেলের শোক ও ছবি বুকে জড়িয়ে নিহত যুবকের মা মাহফুজা বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, "কাজের কথা বলে আমার কলিজার টুকরা ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠানো হইছিল। কিন্তু তারা কাজ না দিয়ে আমার বাছাটারে যুদ্ধের মাঠে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল। আমি এখন আমার ছেলের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে চাই। আমার ছেলের লাশটা যেন দেশে এনে দেওয়া হয়। আমি সরকারের কাছে হাত জোর করে ভিক্ষা চাচ্ছি।"
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানান, "রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় মাদারগঞ্জের এক যুবকের মৃত্যুর খবরটি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে নিহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো উপজেলা প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো বা যোগাযোগ করা হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।"







খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।