শীতের আগাম প্রস্তুতি

S M Ashraful Azom
বিকালে মৃদু ঠাণ্ডা বাতাস। গভীর রাতের হিমেল হাওয়ায় নিজেকে গুটিয়ে রাখা, ভোরে পাখির কিচিরমিচির শব্দ- এ রকম প্রকৃতির নানা আচরণেই বুঝা যাচ্ছে যে, শীতের আগমনী বার্তা বইছে। সামনেই আসছে শীত। শীতকাল আসলেই আমাদের সবারই বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। পরিবারে নবজাতক থেকে শুরু করে বুড়ো পর্যন্ত সবারই আলাদা আলাদা যত্ন নিতে হয়। কিছু সহজ বিষয় মেনে চললে বিভিন্ন রোগবালাই ও অন্যান্য সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তাহলে আর দেরি নয়, চলুন জেনে নিই বিষয়গুলো।
 
১. শীত আসলেই দেখবেন, যে ত্বক বা চর্মের উপরিভাগ ফেটে যাচ্ছে বা শুকিয়ে যাচ্ছে, ঠোঁট শুকিয়ে যাবে। শরীরে একটু রুক্ষ রুক্ষ ভাব থাকবে। তার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী যেমন- পেট্রোলিয়াম জেলি, স্নো ক্রিম, লিপজেল, অলিভ অয়েল, বডি লোশন ইত্যাদি কিনে রাখুন।
২. শীতের জামাকাপড় যদি থাকে তাহলে সেগুলো ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে নিন। যদি কেনার থাকে তাহলে প্রয়োজনমত স্যুট, প্যান্ট, সোয়েটার, কার্ডিগান, জ্যাকেট, ব্লেজার, ফুলহাতা গেঞ্জি, শার্ট প্যান্ট, মাফলার, পাদুকা, মোজা, হাত মোজা, কানটুপি ইত্যাদি এখুনি কেনা শুরু করে দিন।
৩. পরিবারের নবজাতকের জন্য বা বয়স্কদের জন্য জামা কাপড় বা প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে ভুলবেন না। কেননা শীত তাদেরকে বেশি আক্রমণ করে। এর কারণ হচ্ছে পাতলা বা শুষ্ক ত্বকের অধিকারী ব্যক্তির শীত সহ্যক্ষমতা কম। কাজেই পরিবারের অন্য সদস্যদের যত্ন নেবার পাশাপাশি তাদের বিশেষ যত্ন নিন।
৪. শীত মোকাবেলার জন্য গরম জিনিসপত্র যেমন ল্যাপ, কম্বল, কাঁথা, জাজিম ইত্যাদি তৈরি না থাকলে এখুনি তৈরি করতে দিন।
৫. শীতকাল নানা রকম তাজা শাক সবজির জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। এ সময়ে বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি যেমন- ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, শিম, মূলা, লাউ শাক, কুমড়া শাক ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় যেগুলোতে প্রচুর ভিটামিন থাকে। তাই শরীরে ভিটামিনের চাহিদা পূরণের জন্য এ সময় প্রতিদিন নিয়ম করে শাক সবজি খান। এতে আপনার ত্বক সুন্দর ও স্বাভাবিক থাকবে।
৬. এছাড়াও ঠাণ্ডাজনিত জ্বর, সর্দি কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদির জন্য আদা-লেবুর চা, হাল্কা গরম পানি, মধু খুব উপকারী। প্রত্যহ সকালে মুখ ধোওয়ার পরে ১-৩ ভাগ হাল্কা গরম পানিতে ১ চা চামচ মধু ও এক কোওয়া ছোট লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরে ঠাণ্ডাজনিত সব সমস্যা দূর হয়। আরও একটা জিনিস মনে রাখবেন যে, শীতকালে আপনার ট্যাঙ্কি বা ওয়াসার পানি ঠাণ্ডা থাকে। ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করলে আপনার ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গোসলের আগে পানি গরম করে সেটা ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে সহনীয় মাত্রায় রেখে প্রত্যহ গোসল করবেন।
৭. শীতকালে সরিষার তেল ও কালিজিরা খুব উপকারী। সরিষার তেল রান্নায়, বিভিন্ন পদের ভর্তায় ব্যবহার ছাড়াও অনেকে গায়ে মাখার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে পারেন। কালিজিরা ভর্তা এবং বিভিন্ন রেসিপিতে ব্যবহার করা যায়।
৮. কয়েক  বছর  ধরে  ব্যবহার  করা  লিনেন  বা  উলের সোয়েটার, চামড়ার জ্যাকেট, মাফলার, কানটুপি, লেপ, কম্বল বা চাদর গুলোর যত্ন নেয়া শুরু করুন এখন থেকেই। আর এজন্য এগুলো পুনরায় ব্যাবহার উপযোগী করতে এগুলোকে রোদে শুকিয়ে নিন।
৯. অনেকদিন ফেলে রাখার কারণে গরম কাপড় গুলো পোকা-মাকড় কেটে ফেলতে পারে। এজন্য ওই জায়গা গুলো রিপু করে নিলে তা পুনরায় ব্যাবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে।
১০. ব্লেজার, কোট, জ্যাকেট ভালো করে নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে, রোদে শুকিয়ে তারপর ব্যবহার করুন।
১১. শীতের সময় ঘরের মেঝে যেহেতু ঠান্ডা থাকে, তাই শীত আসার আগেই শতরঞ্জি কিংবা সামর্থ্য থাকলে ফ্লোরম্যাট কিনে রাখা ভালো।
১২. অবশ্যই সব সময় আলমারির ভেতর ন্যাপথলিন দিয়ে রাখবেন।
১৩. যেসব ঘরে কাচের জানালা আছে, শীতের সময় তাতে অবশ্যই ভারী পর্দা ব্যবহার করতে হবে। যদি জানালার কোনো শার্সি কিংবা কাচ ভেঙে বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে দ্রুত সারিয়ে নিতে হবে।
 
শীতকালে পরিবেশে ধুলাবালি ও ময়লা বেশি পরিমাণে হয়। তাই আপনার শরীর ও ত্বককে সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক রাখুন।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top