চোখে আলো নেই। তবু নিজেকে আলোকিত করে যাচ্ছেন তিনি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জাকারিয়া হোসেন (শাহিন) এবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লালমনির হাট সরকারী কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ (বিএসএস) কোর্সের চুড়ান্ত পরীক্ষায় ২৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
জাকারিয়ার বাড়ি নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে।
জাকারিয়া ২০০৬ সালে স্থানীয় স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন তিনি। ২০০৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি হারানোয় সে সময় পরীক্ষা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হন জাকারিয়া।
ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রতিনিয়ত সহায়তা চেয়ে বিভিন্ন জনের কাছে সহায়তার আবেদন করেন তার দরিদ্র মা জাহানারা বেগম। দৃষ্টি শক্তি ফিরে না পেলেও একদম ভেঙ্গে পড়েন না তিনি। পুরো উদ্দোমে আবার শুরু করেন লেখাপড়ার কাজ। ফলস্বরূপ ২০১০ সালে লালমনির হাট সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
এইচএসসি পরীক্ষার আগে ২০০৯ সালে লালমনির হাট হাড়িভাঙ্গা (আরডিআরএস) থেকে ব্রেইল পদ্ধতি আয়ত্বে নেন জাকারিয়া।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জাকারিয়ার মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। জাকারিয়া ভবিষ্যতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে চান। জাকারিয়া ইত্তেফাককে বলেন, যদি কেউ আমাকে একটা চাকুরী দেন তবে যেন সেটা হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কোন স্কুলের। আমি শিক্ষকতা করে সহযোগিতা করতে চাই অবহেলিত প্রতিবন্ধীদের। নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা জাকারিয়ার প্রসঙ্গে বলেন, জাকারিয়া ভাগ্যাহত একজন মেধাবী মুখ। আমি সর্বদাই এই ছেলেটি ও তার পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছি। তিনি আরও বলেন আসার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আশার ব্যাপরে আমি সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

