সন্ধ্যা মিলাতে না মিলাতেই শিরশিরে ঠাণ্ডা হাওয়া বইতে শুরু করে। ভোরবেলার রোদে পাওয়া যায় হিমেল গন্ধ। এ সবই শীতের আগমনীবার্তা। আর কদিনের মধ্যে রাতারাতি পড়ে যাবে ঠাণ্ডা। আর শীতকাল মানেই খসখসে ত্বক। শীতকালে ত্বক হয়ে যায় শুষ্ক। শীতে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে ঠাণ্ডা ও শুষ্ক বাতাসে ত্বক ফাটে। ঘরের ভেতর এবং বাইরের তাপমাত্রায় পার্থক্য থাকার কারণে ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। ত্বক নিষ্প্রভ দেখায়। তাই শীত আসার আগেই যত্ন নিতে শুরু করুন ত্বকের।
১। শীতের শুরু থেকেই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। এতে ত্বক সজীব এবং টানটান থাকে। তাই ত্বকের ধরণ অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার নির্বাচন করতে হবে।
২। শীতে শুষ্ক ত্বকের তেল নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। তাই শুষ্ক ত্বকের জন্য পানি, গ্লিসারিন ও তেলের পরিমাণ বেশি আছে এমন ভারী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে হবে। চাইলে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম বা লোশনের পরিবর্তে গ্লিসারিন কিংবা জলপাই তেলও ব্যবহার করতে পারেন।
৩। ত্বক পরিষ্কার করার জন্য কোনো ফেস ওয়াস ব্যবহার করুন। সাবান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
৪। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য তেলমুক্ত পাতলা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি আপনার ত্বক তৈলাক্ত করবে না আবার ত্বকের শুষ্ক ভাব ও দূর করে দেবে।
৫। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য অল্প পরিমাণ তেল আছে, এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
৬। পাকা কলা বা পাকা পেঁপেও ত্বকের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করবে। পাকা কলা বা পাকা পেঁপের পেষ্ট ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া দুধ ও মধু এক সঙ্গে মিশিয়েও ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
৭। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে দিনের চেয়ে রাত হল সর্বোত্তম সময়। রাতে ত্বক বিশ্রাম পায় বলেই পরদিন সকালে সজীব দেখায়। দিনে গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। গোসলের আগে ত্বকে জলপাই তেল বা গ্লিসারিন লাগিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে নেয়া যেতে পারে। অথবা ত্বক খানিকটা ভেজা থাকা অবস্থায়ও ময়েশ্চারাইজার লাগানো যেতে পারে।
৮। সারা দিনে যতবার হাত-মুখ ধোবেন, ততবার নিয়ম করে ময়েশ্চারাইজার লাগান।
৯। দিনের বেলা বাইরে বের হওয়ার সময় ময়েশ্চারাইজারের বিকল্প হিসেবে সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকে যদি তৈলাক্ত ভাব বেশি হলে ভেজা টিস্যু দিয়ে হালকা করে চেপে অতিরিক্ত তেলটা বের করে নিন।
১০। ত্বক অতিরিক্ত ঘষাঘষি করবেন না। মুখের ত্বক অনেক নরম থাকে। অতিরিক্ত ঘষাঘষির ফলে ত্বকে দাগ পড়তে পারে বা লাল হয়ে র্যাশ দেখা দিতে পারে।
১১। শীতের সময় ত্বকে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ফলে এতে র্যাশ, বলিরেখাও পড়তে পারে। তাই কেবল বাইরের যত্ন করলেই হবে না, এ সময়ে ত্বকের সতেজতায় প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। খেতে হবে প্রচুর রঙিন সবজি ও ফল।
১২। শীতের শুরু থেকে ঠোঁট এবং হাত, পায়েরও যত্ন শুরু করতে হবে। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাত ও পায়ে গ্লিসারিন, ভ্যাসলিন লাগিয়ে ঘুমাতে যান। এটি আপনার হাত-পা, ঠোঁটকে নরম ও ময়েশ্চারাইজ করবে।
১৩। শীত পুরোপুরি পড়ার আগেই ত্বকের ওপর মরা কোষ জমতে থাকে। তাই ত্বক নিষ্প্রভ, অনুজ্জ্বল দেখায়। স্ক্র্যাবিং করলে মরা কোষ ঝরে যায়। ত্বক বেশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। ত্বকের ভেতর ময়েশ্চারাইজার ভালো মতো প্রবেশ করতে পারে। ছোট ছোট দানাযুক্ত স্ক্র্যাবার ব্যবহার করলে ত্বক রুক্ষ হবে না। অ্যালকোহল বেসড টোনার এবং অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ব্যবহার করবেন না।

