যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শুল্ক ও কোটামুক্ত
বাণিজ্য সুবিধা চাইলো বাংলাদেশ। এছাড়া দেশটির কাছে স্থগিত হওয়া জিএসপি
সুবিধা পুনর্বহালের দাবিও তোলা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। সোমবার
ওয়াশিংটনে ইউএসটিআর এর কার্যালয়ে দুদেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত
ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কোঅপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট বা টিকফার বৈঠকে এ
সুবিধাগুলো চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,
প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চলার পর বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০১৩ সালের ২৫
নভেম্বর টিকফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকায়
টিকফার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকায়
প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, টিকফার বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সম্প্রতি
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ১২টি দেশের স্বাক্ষরিত টিপিপি চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ
প্রকাশ করেন। বৈঠকে বলা হয়, টিপিপি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভিয়েতনামসহ
কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানি করবে। এতে
বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
সহযোগিতা ফোরাম চুক্তির আলোকে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির
প্রতিবন্ধকতাগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ডিলানি নিজ দেশের
পক্ষে এবং বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন
বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন
পররাষ্ট্র সচিব মো:শহিদুল হক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল
শিপার।
জানা
যায়, টিকফার বৈঠকে শ্রমঅধিকার, জিএসপি অ্যাকশন প্লান, বাংলাদেশের বিনিয়োগ
পরিস্থিতি, বাজার সুবিধা, পণ্যের ন্যায্যমূল্য, ব্লু ইকোনমিসহ অবকাঠামোর
বিষয়টি স্থান পেয়েছে।
বাংলাদেশের
পক্ষ থেকে ইউএসটিআর এর প্রতিনিধি দলকে জানানো হয় যে, শ্রম অধিকারের
ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিনিয়োগ
পরিবেশ এখন ভালো। স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার কারণে
বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের আদর্শ জায়গা। সরকার যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন
করছে তার সুবিধা বিনিয়োগকারীরা নিতে পারে।
বাংলাদেশ
প্রতিনিধি দল বৈঠকে বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার হংকং বৈঠকের ঘোষণা
অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা আশা
করে। এক বার্তায় ওয়াশিংটন থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল জানান, জিএসপি ফেরত
পেতে বাংলাদেশ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দল সন্তোষ
প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দল বলেন, বাংলাদেশে যে বিনিয়োগ
সম্ভাবনা আছে তা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা কাজে লাগাতে পারে।
আগামী বছরের টিকফা বৈঠকটি সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

