সেবা ডেস্ক :অবশেষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ক্ষমতা হারাল বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। গত ১৪ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) পরিবর্তন করে 'বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশন' (এনটিএসসি) গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এই কমিশন গঠনের জন্য নতুন আইনের প্রয়োজন। আর আইন তৈরি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এনটিআরসিএ বিধিমালা-২০০৬ সংশোধন করে কমিশনের আদলে চলতি মাস থেকেই কাজ শুরু করবে 'এনটিআরসিএ'।
গত ২২ অক্টোবর বিধিমালার সংশোধিত গেজেট চূড়ান্ত হলেও বুধবার এই কপি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি মাসের মধ্যেই বিধিমালার আলোকে একটি পরিপত্র জারি করা হবে। এরপর থেকেই এনটিআরসিএ সরকারি কর্মকমিশন-পিএসসির আদলে নিয়োগ শুরু করবে। ফলে শিক্ষক নিয়োগে আর কোনো ক্ষমতাই থাকবে না বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দ্বাদশ নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এদের মধ্য থেকে উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। যেহেতু ইতিমধ্যে বিধিমালার সংশোধন হয়েছে তাই দ্বাদশ নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের নিয়ে নতুন নিয়মে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দেড় মাসের মতো সময় লাগতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক-১) রুহী রহমান বুধবার রাতে বলেন, 'কমিশন করতে নতুন আইন লাগবে। কিন্তু তা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ জন্য কমিশনের আদলেই মূলত এনটিআরসিএকে সাজানো হয়েছে। এর মাধ্যমে আপাতত কিছুটা এগিয়ে থাকা হলো। শিক্ষামন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে। তিনি আগামী সপ্তাহে ফিরবেন। এরপর বিস্তারিত উল্লেখ করে পরিপত্র জারি করা হবে।'
এনটিআরসিএ-২০০৬ সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, প্রতি বছর নভেম্বর মাসের মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পদ ও বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা পাঠাবে। এর আগেই অক্টোবর মাসের মধ্যে উপজেলা ও থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররা শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহ করে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে দাখিল করবেন। জেলা শিক্ষা অফিসার তা যাচাইক্রমে কর্তৃপক্ষের অনুকূলে পাঠাবেন। কর্তৃপক্ষ ওই তালিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমদ বুধবার রাতে বলেন, 'শিক্ষক নিয়োগে এখন আর দ্বিতীয় কোনো পক্ষ থাকল না। এনটিআরসিএই সব। এর সঙ্গেই পরিচালনা কমিটির হাত থেকে ক্ষমতা চলে গেল। যাদের এখন নিবন্ধন রয়েছে তারাও তাদের নিবন্ধন ইস্যুর দিন থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় পাবেন। তবে তাদের জন্য পৃথক মেধা তালিকা হবে না পুরনো নিয়মে নিয়োগ পাবেন তা নিয়ে কাজ করছি। পরিপত্রেই পুরো বিষয়টি পরিস্কার হবে। আর এই বিধিমালা সংশোধনের পরই মূলত এটা কার্যকর করার কথা। কিন্তু আমরা যেহেতু এখনো মেধা তালিকা তৈরি করতে পারিনি, তাই যত দিন তা না হয় তত দিন পুরনো নিয়মে পরিচালনা কমিটির নিয়োগের সুযোগ থাকছে। তবে সংশোধিত বিধিমালায় কোনো পরিবর্তন থাকলে সেটা মানতে হবে।'
নাম প্রকাশ না করে মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষা শেষ করে মেধা তালিকা করতে দেড় থেকে দুই মাস সময় প্রয়োজন। এর আগে মন্ত্রণালয় ইচ্ছে করলে পুরনোদের দিয়ে এখনই একটি মেধা তালিকা করার ব্যাপারে পরিপত্রে যুক্ত করতে পারে। আর তা করতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগার কথা নয়। তাহলে পরিচালনা কমিটি যে এক-দেড় মাস সময় পাচ্ছে সেটাও পাবে না।