নজরুলের বৈচিত্র্যময় সুর-ঐশ্বর্যের সম্মোহন আর অসামপ্রদায়িক মানবতার বাণী উচ্চারিত হলো নজরুল সম্মেলনে। আলোচনায় বক্তারা বলেন, নজরুলের গান দিয়ে সমাজ বদলানো যায়, মানুষের মন বদলানো যায়। দেশে দেশে ধর্মের নামে যে উন্মাদনা যে জঙ্গিবাদ শুরু হয়েছে, তার সমাধান রয়েছে নজরুলের গানে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে নজরুল একাডেমির আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী নজরুল সম্মেলন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি কেন্দ্র মিলনায়তনে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উদ্বোধন করা হয় এ সম্মেলন। আয়োজনের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। উদ্বোধনী আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থার সভাপতি লোকবিজ্ঞানী ড. আশরাফ সিদ্দিকী। স্বাগত ভাষণ দেন নজরুল একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এএমএম ফরহাদ, ম. মিজানুর রহামান, রবিন মুখোপাধ্যায়সহ নজরুলের নাতনী খিলখিল কাজী। মূল আলোচনা করেন মোহাম্মদ জাকীর হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি। বাংলা সংস্কতির বিকাশে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। নজরুলের লেখা গান, কবিতা ও সাহিত্য গবেষণার ক্ষেত্রে নজরুল একাডেমি বাংলাদেশের একটি পথিকৃত্ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান দীর্ঘীদিন যাবত্ নজরুল চর্চায় যে অবদান রেখে চলেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।’
খিলখিল কাজী বলেন, ‘নজরুল সঙ্গীতের প্রচারণার জন্য নজরুল সম্মেলন হচ্ছে। নজরুলের গান থেকে প্রেরণা নিয়ে দেশের সব সংকট দূর করা যায়।
অনুষ্ঠানে ভারত থেকে আগত ‘অগ্নিবীণা’র শিল্পীদের ‘নজরুল সম্মেলন ২০১৫ শুভেচ্ছা ক্রেস্ট’ প্রদান করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। আর প্রধান অতিথিকে ‘নজরুল সম্মেলন ২০১৫ শুভেচ্ছা ক্রেস্ট’ প্রদান করেন নজরুল একাডেমির সভাপতি ড. আশরাফ সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্বৃতিক আয়োজন। কলকাতার অগ্নিবীণা ও ঢাকা নজরুল একাডেমির শিল্পীবৃন্দ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। কলকাতার সঙ্গীত শিল্পীরা হলেন শংকর ঘোষাল, মঞ্জুষা চক্রবর্তী, ড. বনানী দে, শেখ সওগাত আলি, জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়, মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায়, কণিকা মজুমদার, কমলিকা চট্টোপাধ্যায়, দিলাশা চৌধুরী, সুমিতা বিশ্বাস, সুমিতা ভৌমিক, রেবা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুচিত্রা ঘোষ। নজরুল একাডেমির শিল্পীবৃন্দের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন খালিদ হোসেন, করিম শাহাবুদ্দিন, মইদুল ইসলাম, মাহমুদা আঞ্জুম বৃষ্টি।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন আজ একই স্থানে এবং একই সময়ে শুরু হবে নজরুল সম্মেলন। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সঙ্গীত শিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী। সভাপতিত্ব করবেন ভাষা সংগ্রামী মোহাম্মদ আব্দুল গফুর। আলোচনা শেষে নজরুল একাডেমি ও অগ্নিবীণার শিল্পীরা নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।
২৭ নভেম্বর ফেনী শিল্পকলা একাডেমিতে বিকাল ৪টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। জেলা শিল্পকলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে সেখানে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে।
২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের নজরুল স্কয়ার ডিসি হলে বেলা ৩টায় চতুর্থ দিনের আয়োজন শুরু হবে। চট্টগ্রাম জেলা নজরুল একাডেমির তত্ত্বাবধানে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এটির উদ্বোধন করবেন খিলখিল কাজী, সুবর্ণ কাজী ও জেলা প্রশাসক। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করবেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র।
২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম দিনের আয়োজন। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সঙ্গীতগুরু ওস্তাদ মিহির লাল। এটিও পরিচালনা করবে চট্টগ্রামের জেলা নজরুল একাডেমি। বাকি দুই দিন ১ ও ৩ ডিসেম্বরের ষষ্ঠ ও সপ্তম দিনের আয়োজন হবে নজরুল একাডেমির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মগবাজারের বেলালাবাদে।

