রাজন ও রাকিব হত্যা মামলার রায় আজ

S M Ashraful Azom
দেশের আলোচিত দুই শিশু হত্যা মামলার রায় আজ। এর মধ্যে সিলেটে বর্বরোচিত ভাবে খুন হওয়া তের বছরের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করবেন জেলার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা। আর খুলনায় চাঞ্চল্যকর শিশু রাকিব হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করবেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক (অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ) দিলরুবা সুলতানা। এদিকে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান আলম ও মা লুবনা বেগম। তারা বলেছেন, তাদের প্রতিবন্ধী ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাই তারা হত্যাকারীদের ফাঁসি এবং রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চান।
 
সিলেট অফিস জানায়, দেশ-বিদেশে আলোচিত রাজন হত্যাকাণ্ড ঘটার ৪ মাসের মাথায় এই মামলার রায় ঘোষণা হতে যাচ্ছে। রায়টি শুনতে সিলেটের ঘরে ঘরে এখন কাটছে অপেক্ষার প্রহর। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী জানান, বিচারক আজ রবিবার মামলার রায় ঘোষণা করবেন। গত ২৭ অক্টোবর রায়ের এই         তারিখ ধার্য করেন আদালত।
 
গত ৮ জুলাই ভোরে সিলেটের কুমারগাঁওয়ে শিশু রাজনকে একটি ভ্যানগাড়ি চুরির অপবাদে সড়কের পাশে একটি দোকানের পাকা খুঁটির সাথে বেঁধে বর্বরোচিত ভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। আবার নির্যাতনকারীরাই শিশুটিকে পেটানোর দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের এই ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ১৬ আগস্ট ১৩ জনের বিরুদ্ধে এ হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটভুক্ত ১১ আসামি হচ্ছে নির্যাতনকারী কামরুল ইসলাম, তার সহোদর মুহিত আলম ও আলী হায়দার ওরফে আলী, চৌকিদার ময়না মিয়া, ভিডিও চিত্র ধারণকারী নূর আহমদ, দুলাল আহমদ, আয়াজ আলী, তাজ উদ্দিন বাদল, ফিরোজ মিয়া, আছমত আলী ও রুহুল আমিন। এ ঘটনায় কামরুল, তাজ উদ্দিন বাদল ও রুহুল আমিন ছাড়া বাকি ৮ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ১৫ অক্টোবর রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৌদিতে পলাতক কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
 
খুলনা অফিস জানায়, গত ৩ আগস্ট বিকালে নগরীর টুটপাড়ায় মোটরসাইকেল গ্যারেজ শরীফ মোটর্সের মালিক ওমর শরীফ, তার কথিত চাচা মিন্টু খান চাকরি ছেড়ে দেয়ার অপরাধে শিশু রাকিবকে ধরে নিয়ে মোটরসাইকেলে হাওয়া দেয়ার মেশিন দিয়ে তার পায়ুপথে হাওয়া ঢুকিয়ে দেয়। এতে নাড়িভুঁড়ি ছিঁড়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। এ ঘটনার পরদিন নিহত শিশুর বাবা নূরুল আলম তিনজনের নামে খুলনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২৫ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারভুক্ত তিন আসামি ওমর শরীফ, মিন্টু খান ও শরীফের মা বিউটি বেগমকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে মোট ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর মহানগর আদালত বিচার কাজ শুরুর জন্য মামলাটি দায়রা জজ আদালতে পাঠান। আদালত গত ১১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর টানা পাঁচদিন ও গত ২৫ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৮ নভেম্বর মামলার রায়ের দিন ঘোষণা করেন।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top