লবণ উত্পাদনের শুরুতেই ফের আমদানির অপচেষ্টা

S M Ashraful Azom
0

গতবছর নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলতি মৌসুমে ফের লবণ উত্পাদনে নেমে পড়েছেন চাষিরা। এবার চকরিয়া উপজেলা ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চল এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার আংশিক এলাকা মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে ১৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নভেম্বর মাস থেকেই উপকূলের বেশির ভাগ এলাকায় লবণ চাষ শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মোকামে নতুন লবণ উত্পাদনও শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে লবণ উত্পাদনের শুরুতেই রাজধানী ঢাকায় অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র লবণ আমদানিতে ফের তত্পর হয়ে উঠেছে। বিদেশ থেকে তারা এক লাখ মেট্রিক টন লবণ আমদানি করতে নানাভাবে তোড়জোড় শুরু করেছে। গত বুধবার ঢাকায় লবণ আমদানির বিষয়টি নিয়ে ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  সেই বৈঠকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা ভারত থেকে ফের লবণ আমদানির বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবগত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ খবর মাঠ পর্যায়ে চাষিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
 
বাংলাদেশ লবণ শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) ও স্থানীয় চাষিদের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার  জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার সদর উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী (আংশিক) উপজেলার ১৩টি কেন্দ্রের অধীনে প্রায় ৬৫ হাজার একর জমিতে নভেম্বর মাস থেকে লবণ চাষে নেমেছেন চাষিরা। বিসিক এবার ১৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২২ লাখ মেট্রিক টন লবণ উত্পাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, অন্য বছরের তুলনায় এবার লবণ উত্পাদনে প্রায় একমাস আগে চাষি মাঠে নামার কারণেও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হতে পারে। 
 
চলতি মৌসুমে চকরিয়া উপজেলার দরবেশকাটা কেন্দ্রে (পেকুয়াসহ) ১২হাজার ৩৭৫ একর, ডুলাহাজারা কেন্দ্রে ৪৭৫একর, খুটাখালী ফুলছড়ি কেন্দ্রে ৪হাজার ৩৭৬ একর, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী কেন্দ্রে ৬হাজার ৪৪৪ একর, মহেশখালী উপজেলার উত্তর নরবিলা কেন্দ্রে ৭হাজার ৪শ’ একর, গোরকঘাটা কেন্দ্রে ৮হাজার ৫৭৭একর, মাতারবাড়ি কেন্দ্রে ৫হাজার ৮০৬ একর, কক্সবাজার সদর উপজেলার গোমাতলী কেন্দ্রে ৪হাজার এক একর, চৌফলদন্ডি কেন্দ্রে ৩হাজার ২শ’ একর, বাঁশখালী উপজেলার সরল কেন্দ্রে ১হাজার ৪২১ একর, পূর্ব বড়ঘোনা কেন্দ্রে ৬হাজার ৯০একর, টেকনাফে ৩হাজার ৯শ’ত একর ও বিসিকের প্রদর্শনী কেন্দ্রে ৮৬একর জমিতে পলিথিন ও সনাতন পদ্ধতিতে লবণ চাষ করা হচ্ছে।
 
বাংলাদেশ লবণ চাষি সমিতির সভাপতি ও চকরিয়া উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, উত্পাদিত লবণে দেশের চাহিদা মিটিয়ে মজুদ থাকার পরও প্রভাবশালী অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সরকারের উচ্চমহলে বারবার ভুল তথ্য দিয়ে সংকটের মিথ্যা অজুহাত তুলে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির  চেষ্টা করে আসছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও  লবণ চাষি সমিতির কর্মকর্তারা অবিলম্বে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির এই অপচেষ্টা বন্ধের মাধ্যমে দেশীয় লবণ শিল্পকে রক্ষা করতে সরকারের সংশ্লিষ্টমহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top