
পৌরসভা নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাই নির্বাচনে বিজয়ী হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দলটি। এর অংশ হিসেবে দলের মন্ত্রী-এমপি নন এমন কেন্দ্রীয় নেতারা এখন তৃণমূলে অবস্থান করছেন। ধারাবাহিকভাবে এসব নেতারা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশব্যাপী সফর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সফলতা জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। এছাড়া ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়ে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সার্বিক বিষয় সমন্বয় করার জন্য সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে।
তবে সার্বিক প্রস্তুতি থাকলেও নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীরাই দলটির জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয়-স্বজনরা মেয়র পদে একক প্রার্থীর তালিকা থেকে বাদ পড়ায় তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিদ্রোহী প্রার্থীরা অনেকটা অনড় অবস্থানে রয়েছেন। জানা গেছে, ২৩৪ পৌরসভার প্রতিটিতে গড়ে ৭ জন করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। বর্তমানে গড়ে প্রতিটিতে তিন জন করে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য আগাম কোনো চিঠি না নেয়ায় অনেকটা বিপাকে পড়েছে দলটি। তাই দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলে গিয়ে বুঝিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রয়োজনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও সিদ্ধান্ত রয়েছে। প্রসঙ্গত, দলের মনোনয়ন বঞ্চিতরা যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হন তবে তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা। এ তালিকা দেখে প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘তৃণমূলের মতামত এবং বিভিন্ন রিপোর্টের ভিত্তিতে দলের ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের মেয়র পদে একক প্রার্থী করে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অনেকে না বুঝে হয়তো বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তাই বুঝিয়ে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি মাঠে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী দেখতে চাই।’
এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে কিভাবে বসিয়ে দেয়া যায় সে ব্যাপারে করণীয় ঠিক করতে গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্যরা জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সংসদ সদস্য নন এমন কেন্দ্রীয় নেতাদের তৃণমূলে থাকতে হবে। একই সঙ্গে বৈঠকে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সাত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাত সাংগঠনিক সম্পাদককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আশা করছি ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে একটি পৌরসভায়ও দলের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণ থেকে এতটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যে শত চেষ্টা করেও তাদের পৌরসভা নির্বাচনে জয়লাভ করার সুযোগ নেই। এটা বুঝতে পেরেই তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে আমি আশা করি, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছিলো। এখন স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ না নিলে তারা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।