শেরপুরে উৎসবমূখর পরিবেশে পালিত হলো জেলা প্রশাসনের নবান্ন উৎসব

Nuruzzaman Khan
এম. সুরুজ্জামান, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরে উৎসবমূখর পরিবেশে পালিত হয়েছে জেলা প্রশাসনের নবান্ন উৎসব। সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ উৎসবে মানুষের ঢল নেমেছিল। প্রশাসনের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, শিশু, বৃদ্ধ, কামার কুমার জেলে, কৃষকসহ হাজারো মানুষ এ উৎসবে যোগ দেন। উৎসবে উপলক্ষে এদিন বাহারী পিঠার মেলার আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় নারীরা ২০টি ষ্টল স্থাপন করেন।

বিকেলে হাতি আগলা গ্রামের একটি মাঠে নতুন ধান কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা করেন জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিম। পরে ওই গ্রামে হাতি আগলা গ্রাম উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত লাঠি খেলা, কাবাডি খেলা ও হারিয়ে যাওয়া ১০৯ রকমের পিঠাপুলি অবমুক্ত করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিম বলেন, বাঙ্গালীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নবান্ন উৎসব। এ উৎসব বাঙ্গালীর আসাম্প্রদায়িক চিন্তা ও চেতনাকে লালন করে। এ উসবের মধ্যে দিয়ে আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টন একাকার হয়ে যাই। সকলের মধ্যে ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। তিনি আরো বলেন, নবান্ন উসবের মধে দিয়ে আমরা সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করতে চাই।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদ আহম্মেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. নূরল ইসলাম হিরো প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। পরে অতিথিদের হাতে হাতি আগলা গ্রাম উন্নয়ন সমিতির পক্ষ থেকে পিঠে পুলি তুলে দেওয়া হয়।

রাতে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা, নৃত্য, গান, কৌতুক ও বাল্য বিবাহ সংক্রান্ত সচেতনতমূলক নাটিকা পরিবেশন করেন। গভীর রাত অবধি নবান্ন উৎসবকে ঘিরে হাতি আগলা গ্রামে এক উসবমূখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

#buttons=(ঠিক আছে) #days=(20)

আমাদের ওয়েবসাইট আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। কুকি সম্পর্কে জানুন
ঠিক আছে
উপরে যান