এখন মাদক ও চোরাচালানিদের দখলে পবার সোনাইকান্দি ॥ নিশ্চুপ প্রশাসন

S M Ashraful Azom
এস.এইচ.এম তরিকুল ইসলাম : রাজশাহীর পবা উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেষা পদ্মা নদী তীরবর্তী গ্রাম সোনাইকান্দি ও বেড়পাড়া এলাকা এখন মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানিদের দখলে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্যসহ ভারত থেকে অবৈধ পথে নিয়ে আসা সব জিনিষপত্র। মাঝে মধ্যে অর্ডার অনুযায়ি অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। সেখানকার ব্যবসায়ীদের দাবি, টাকা দিলে এ এলাকায় হরিণেরও চোঁখ সরবরাহ করা হয়। তবে পুরাতন পার্টির ক্ষেত্রেই এটা প্রজয্য। ফলে এ এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। প্রতিদিন হাজার হাজার ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য দেদারছে বিক্রি হচ্ছে এখানে। কিন' স'ানীয় প্রশাসনের সাথে যোগসাজস থাকায় মাদক বিরোধী পরিবারগুলো তাদের সাথে প্রতিবাদ করে পেরে উঠছেনা। কারণ, প্রতিবাদকারীদেরকেই উল্টো আটক করে মাদক মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে মাদকের মতো অবৈধ অস্ত্রেরও সয়লাব হয়ে যাবার আশঙ্কা করছেন সচেতনরা। এ বিষয়ে প্রতিকারের জন্য রোববার (০৬ নভেম্বর) একটি লিখিত অভিযোগ রাজশাহীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোনাইকান্দি গ্রামের রমজান আলী, খাদিজা বেগম, আজিজুল হক কটু, রাজন, সাবদুলসহ আরো বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। কিন' তাদের ভয়ে এলাকাবাসী কিছু বলতে পারেনা। কেউ প্রতিবাদ করলেই হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। মাদকদ্রব্য সেবন করে পথচারীদের পথ আটকিয়ে ছিনতাই ও লুটপাট করা হচ্ছে। আর এলাকার মেয়েদেরকেও যৌন হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযোগের পর রোববার ওই এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ক্রেতা সেজে মাদক কিনতে চাইলে মাদক ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা (ভ্রাম্যমান বিক্রেতা) বলে, সাথে পরিচিত লোক না আনলে মাল দেওয়া যাবেনা। কারণ, এর আগে আইনের লোকের মাদক খাওয়ার কথা বলে ধরে নিয়ে গেছে। আপনারা প্রশাসনের লোক কি-না তা বুঝতে পারছিনা। আপনাদের কাছে এখন মাদক বিক্রি করা যাবেনা। তবে কয়েকদিন এসে আড্ডা দেন, পরিচিত হন, চরে পিকনিক করেন, সবকিছু পাবেন। মাদক তো মামুলি ব্যাপার, টাকা দিবেন ঘোড়া-হরিণ (অস্ত্র) সব পাবেন।
এভাবে কাজ না হওয়ায় পরে কৌশলে ফোন দেওয়া হয় মাদক সম্রাট রমজানকে। তিনি বলেন, আপনার চেহারা না দেখলে চিনবো কিভাবে। কথোপকথনের এক পর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় জেনে বলেন, ভাটা ও গাড়ীর ব্যবসা করে ধরা খেয়েছি। যে কারণেই বাধ্য হয়ে এ পেশায় নেমেছি। তবে প্রশাসনের চাঁদার পরিমান বেড়ে যাওয়ায় আপতত জরালোভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না বলেও দাবি করেন রমজান। ছদ্দনামে জানতে চাইলে মাদক সম্রাজ্ঞী খাদিজা বেগম বলেন, মালের দাম বেশী। তারপরেও আসেন একটু কমসম করে দেওয়া যাবে।
নাম না প্রকাশ করা শর্তে সোনাইকান্দি গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, ইয়াবা-ফেন্সিডিল এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও মাসিক কন্ট্রাক থাকায় প্রশাসন এদের ধরেনা। আর কেউ প্রতিবাদ করলে মারপিট করে ও এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই এলাকার অধিকাংশ পরিবারই মাদকসহ বর্ডার ব্যবসায় (চোরাকারবারি) জড়িত। আর এই মাদক ব্যবসা বন্ধ করবে কে? যারা রক্ষক তারাই তো ভক্ষক। আর মাদক খেয়ে এলাকায় যুব সমাজ ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হলে কিছুটা হলেও মাদক ব্যবসা কমে হয়ে যাবে, পাশাপাশি চোরাচালানিও বন্ধ হবে, এলাকায় ফিরে আসবে শান্তি শৃঙ্খলা।
এ বিষয়ে পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম রোববার রাতে জানান, ওই এলাকায় বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। তারপরেও আমাদের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। মামলাও হচ্ছে। তবে যেহেতু এলাকাবাসি অভিযোগ অভিযোগ করেছে, এখন আরো নজরদারি বাড়ানো হবে।
অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেন হোসেন ভুইয়া বলেন, আমি দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় আছি। গিয়েই প্রয়োজনীয় ব্যবস'া নেওয়া হবে। 
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top