‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’র টোল আদায়ের নামে আত্মসাৎ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ

Nuruzzaman Khan
সেবা ডেস্ক:  দীর্ঘ দুই যুগ পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু’র টোল আদায়। প্রায় পনের মাস ধরে টেন্ডার ছাড়াই টোল আদায় করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, টোলের নামে আত্মসাৎ হচ্ছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় টোল আদায় করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে সওজ কর্তৃপক্ষ। তারাও চায় টেন্ডারের মাধ্যমে টোল আদায় করতে।
 
১৯৮৯ সালে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর পোস্তগোলা-কেরানীগঞ্জ হাসনাবাদ এলাকায় নির্মাণ করা হয় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু। সেতুটি উদ্বোধন করেন তত্কালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। শুরু থেকে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলরত যানবাহনভেদে ১৩ ও ২০ টাকা হারে টোল নেওয়া হতো। এরপর এটা বৃদ্ধি করা হয় ২০ ও ৩০ টাকায়। কিন্ত হঠাত্ ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে  যানবাহনভেদে টোল বৃদ্ধি করা হয় ২ থেকে ৩ গুণ। সেসঙ্গে টোলের আওতায় আনা হয় ছোট যানবাহনগুলোকে। ফলে অতিরিক্ত টোলের হার কমানো ও টোল ফ্রি করার দাবিতে আন্দোলন করে বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠন। আন্দোলনকারিরা টানা কয়েকদিন বন্ধ করে দেয় যান চলাচল। ফলে কর্তৃপক্ষ ছোট হালকা যানবাহনের টোল মুক্ত করার পাশাপাশি বর্ধিত ভাড়া কার্যকর স্থগিত করে। এ অবস্থায় টেন্ডারের ব্যাপারে অনাগ্রহী হয়ে পড়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে ৯০ দিনের জন্য টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সড়ক ও জনপথ কেরানীগঞ্জ সড়ক উপ-বিভাগকে এবং এ সময়ের মধ্যেই টেন্ডার সম্পন্ন করার নিয়ম থাকলেও দীর্ঘ ১৫ মাস অতিবাহিত হলেও হচ্ছে না টেন্ডার। 
 
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সরকার প্রতিদিন গড়ে ২০-৩০ হাজার টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সওজ-এর তথ্যানুযায়ী ২০-২৬ অক্টোবর ১৬ তারিখ পর্যন্ত সাত দিনে টোল আদায়ের পরিমাণ ছিল ৯ লক্ষ ৮ হাজার ৮ শ’ টাকা। অর্থাত্ দৈনিক গড় টোল আদায়ের পরিমাণ ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৮২৮ টাকা। বার্ষিক আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৭৩ লক্ষ ৮৭ হাজার  ২২০ টাকা।
 
এদিকে কেরানীগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের মৌখিক হিসাবানুযায়ী গত ১ বছরে টোল থেকে অর্থ আদায় হয় ৫ কোটি ৮ লক্ষ টাকা। কিন্তু লিখিত কোনো হিসাব দিতে তালবাহানা করেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। সূত্রমতে সর্বশেষ বাত্সরিক ইজারার পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। তখন টানা তিন মাস হরতাল অবরোধ থাকায় যানবাহন চলাচল কম থাকলেও বিগত এক বছরে এর সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্ত সে তুলনায় বাড়েনি টোল আদায়ের অর্থ।
 
কেরানীগঞ্জ সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমাদের জনবল কম এবং তারা একাজে তেমন পারদর্শী নয়। এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ ঢাকা বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের জনবল কম। ফলে অনেক স্টাফ সম্পৃক্ত থাকায় অন্য কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া আমরা চাই টোল ফ্রি অথবা নতুন হারে টোল আদায় করতে।
ট্যাগস

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top