সেবা ডেস্ক: কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর (২৫) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ক্যাম্পাসের ২নং গেইট এলাকায় তার বাসার ২তলায় নিজ কক্ষে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যলয়ের পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. মোকাদ্দেস মিয়া।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক ও চবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী মাকের্টিং বিভাগের ২০০৬-০৭ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের (বাংলার মুখ) নিয়ন্ত্রক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিনের অনুসারী ছিলেন। তিনি ২ নং গেইট এলাকায় পরিবার নিয়ে মো. সেলিম হোসেনের বাসায় ভাড়া থাকতেন। রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দিয়াজের কক্ষের জানালা দিয়ে ফ্যানের সাথে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পর মুহুর্তের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দিয়াজের বাসার আশপাশে ভিড় জমায়। পরে ১০ টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও খবর লিখা পর্যন্ত ঝুলন্ত লাশটি নামাতে পারেন নি। আলামত সংগ্রহ করার জন্য উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তা আসলে লাশটি নামানো হবে বলে জানিয়েছেন চবি পুলিশ ফড়ির ইনচার্জ মো. মোকাদ্দেস মিয়া। অন্যদিকে দিয়াজের মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই বাসার আশপাশে ভিড় জমায়। ক্যাম্পাসে বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দিয়াজের অনুসারীরা বলছে এটা সুইসাইড নয় বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ওই এলাকার বাসিন্দা মেহরাজ হোসেন জানান, ‘হঠাত খবর বাসার নিচে থেকে দিয়াজ ভাইয়ের বাসার জানালা দিয়ে দেখি তার লাশ ঝুলছে। গতকাল সুবর্ণ জয়ন্তীতে ভাইয়ার সাথে ছবি তুললাম। গতকালই সবার সাথে কত মজা করেছে অথচ আজ তিনি নেই।’
পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. মোকাদ্দেস মিয়া ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, দিয়াজের বাসার ২য় তলার নিজ কক্ষে তার লাশটি ফ্যানের সাথে ঝুলছে। ভেতর থেকে লক করা থাকায় আমরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারি নি। তবে উদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে। কিভাবে মৃত্যু হয়েছে সেটা আলামত ওতদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আন্তঃকোন্দলের জের ধরে দিয়াজের বাসা ভাংচুর হয়। এরপর থেকে তার মা ওই বাসায় থাকেন না। তার ছোট ভাই ঢাকায় থাকেন। দিয়াজ একাই বাসায় থাকতেন বলে জানা যায়।