লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: অপহরণের ২৫ দিন পার হয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের বেড়ী পাশে থাকা কিশোরী হাসি বেগম (১৩)। এর আগে গত শনিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ হয় ওই কিশোরী।
এ ঘটনায় পুলিশ সুপার বরাবর দরখাস্ত ও আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে ওই কিশোরীর বাবা মো: খোরশেদ আলম খোকা বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মো: সফি উল্ল্যাহ ছেলে মো: সুজন (৪০) কে প্রধান আসামী করে ৭জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের নজির আহম্মদের স্ত্রী বিলকিছ বেগম (৩২), আবুল কালামের ছেলে রবিন প্রকাশে ইয়াবা রবিন (২৮), মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে লেদু মুন্সি (৪৫), আ: ছাত্তারের ছেলে সেকান্তর (৩২), ছানা উল্লাহ ছেলে জাহাঙ্গীর (২৫)।
ভুক্তভোগি পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত আসামীগন দীর্ঘদিন থেকে মাদক ও পতিতা ব্যবসা করে আসছে। বিভিন্ন সময় বেড়ীর পামে থাকা ঘরগুলো ভাড়া নিয়ে নিজ আত্নীয় পরিচয় দিয়ে পতিতাদের নিয়ে এসে রমরমা ব্যবসা করে আসছে। কয়েকমাস পূর্বে বিলকিছ বেগমকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকায় পুলিশ গ্রেফতার করে। যাহার মামলা নং-৫৩/১৫। পরে একই নারীকে সংশোধন না হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারদন্ড প্রদান করেন।
তারা দীর্ঘদিন যাবৎ হাসিকে বিভিন্ন লোভ-লালসা দেখিয়ে আসছে। তাতে সে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মাইক্রোবাস যোগে এসে তাকে বিগত ২২ অক্টোবর অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করিলে অভিযুক্ত সুজন হাসিকে এনে দিবে বলে কিছুদিন আশ্বাস দিয়েছিল। একপর্যায়ে তারা তাকে পতিতালয়ে বিক্রি করে দিছে বলে ওই কিশোরীর পিতা খোরশেদ আলমকে জানায় এবং বাড়াবাড়ি করলে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয় অপহরণ কারীরা। এর আগেও আসামীদের অসামাজিক কাজে লিপ্ত খাকায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। ওই কিশোরির পিতা খোরশেদ আলম খোকন জানায়, এসপি কাছে অভিযোগ করেছি আবার আদালতেও মামলা করেছি তারপরও ২৫ দিন পার হয়ে গেছে আমাদের মেয়ের কোন খোঁজ খবর পায়নি।
মা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার তিন মেয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানায় দ্রুত হাসিকে উদ্ধার করে আমাদের বুকে পিরিয়ে দিতে। তাই সকলের সহযোগিতা কামনা করেন অসহায় পরিবারের লোকজন।
উল্লেখ্য লক্ষ্মীপুর পৌর ৬ নং ওয়ার্ডের কইসায় বাড়ি বাসিন্দা সুজন সেই লক্ষ্মীপুর জেলার মাদক সম্ররাটের মধ্যে অন্যতম একজন । এখানে ও শেষ নয় ? সেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে পতিতা আমদানী রপতানি করে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসি। অপর দিকে গরীব অসহায় মেয়েদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ের নামে বৌ বানিয়ে শহরের বিভিন্ন বাড়ি ঘরে বাসা ভায়া করে পতিতা ও মাদকদ্রব্য বিক্রয় করে আসছে সুজন ।
পাচারকারী সুজনের সাথে কথা বলে জানা যায় ঝুমুর সিনেমা এলাকার পতিতালয়ের দালাল মুরাদ এর মাধ্যমে আমার বাড়িতে সাথী নামে একটি মেয়ে আসে। সেই আমার বাড়িতে ৬ দিন থাকার পর আমাকে না জানিয়ে কিশোরী হাসি (১৩)কে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়। হাসিকে কোনো পতিতালয়ে বিক্রয় করে দিতে পারে বলে আমার ধারণা। তার পরও আমি চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে খোজ খবর নিয়ে হাসিকে উদ্ধার করার চেষ্ট্যা করছি।
