এম. সুরুজ্জামান, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের চরাঞ্চলে এক সময় বছওে দুই একটা আবাদ করা হতো। আর সেখানে এখন দিগন্ত জুড়ে সবুজের সমারোহ। বর্তমানে ব্যাপকভাবে মাসকলাই চাষ করা হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলে পাল্টে যাচ্ছে চাষাবাদের চিত্র। মাসকলাই চাষে সার ও পানির অল্প খরচ হয়। আর মাসকলাই চাষের পর বোরো আবাদের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদের চিত্র পাল্টে ফেলেছেন। এই সময়গুলোতে চরাঞ্চলে বহু জমি পতিত পড়ে থাকতো। কেউ কেউ আবার স্বল্প পরিসরে আমন ধান চাষ করতো। কিন' এখন সবাই ঝুঁকছেন মাসকলাই চাষে।শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষ করা হয়েছে। গত বছর ৮২০ হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষ করা হয়েছিল।
এতে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘাতে ৫ মণ করে মাসকলাই পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। বাজার ভালো থাকলে ২২শ থেকে ২৩শ টাকা হারে প্রতি মণ বিক্রি করা যাবে। ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির প্রথম দিকে মাসকলাই মাড়াই শুরু হবে।
ওই এলাকার কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, বন্যার পর আমরা কলাইয়ের আবাদ করেছি। আশার করি ফলন ভালা হবে। এর পর বোরো আবাদ করব। আশা করি বোরোর আবাদও ভাল হইবে।
কৃষক আব্দুল হক বলেন, আমি এ বছর চার বিঘা জমিতে মাসকলাই চাষ করছি। অল্প খরচে এবং অল্প সময়ে আমরা ভালা ফলন পাইয়া থাহি। বাজারে মাসকলাইয়ের চাহিদাও বেশি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, সরকারের কৃষি বান্ধব কর্মসূচির আওতায় আমরা শেরপুর জেলায় এ বছর মাসকলাই উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষে ৭শ বিঘা জমিতে ৭শ জন কৃষককে প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বারি মাস-৩ এর বীজ ও রাসায়নিক সার সরবরাহ করেছি।
এছাড়া কৃষক নিজেরাও উদ্বুদ্ধ হয়ে মাসকলাই চাষ করেছেন। ফসল ভালো এবং দামও ভালো পাওয়ায় শেরপুরে ব্যাপকভাবে মাসকালাইয়ের দিকে ঝুঁকছে কৃষকরা।