সেবা ডেস্ক: ‘প্রতিযোগিতাই উন্নয়নের চাবিকটি’ স্লোগানকে ধারণ করে আগামী চার বছরের জন্য কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
এ পরিকল্পনায় স্বাভাবিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সৃষ্টির লক্ষ্যে জোর দেয়া হয়েছে নারী ফুটবল ও বয়স ভিত্তিক ফুটবলকে। সেই সঙ্গে ফুটবল কোচ, রেফারি ও সংগঠক প্রশিক্ষণেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শনিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাকক্ষে ফুটবলের এই চার বছরের কর্মপরিকল্পনার আনুষ্ঠনিক ঘোষণা দেন ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।
ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সদস্য শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, আমিরুল ইসলাম বাবু, মাহফুজা আকতার, বিজন বড়–য়া ও সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মূলত ৮টি ধারায় বাফুফে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এগুলো হচ্ছে- এলিট খেলোয়াড় উন্নয়ন, প্রশিক্ষকদের শিক্ষা প্রদান এবং উন্নয়ন, প্রতিযোগিতা, রেফারি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য এবং ক্রীড়া বিজ্ঞান, পেশাদার ক্লাব এবং লিগ, মহিলা ফুটবল এবং তৃণমূল।
বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন এবং এর অংশিদারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের সম্মতিতেই আগামী চার বছরের এই কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
এটি বাস্তবায়নের জন্য ফুটবলের পরিচালনা কমিটিকে দুইভাগে বিভক্ত করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একটি অংশ ফুটবলের চলমান বিভিন্ন লিগ, টুর্নামেন্টসহ প্রশাসনিক শৃংখলা ও স্বাভাবিক যেসব কর্মকান্ড অতীত থেকে চলে আসছে তা পরিচালনা করবে। অপর অংশ দেশীয় ফুটবলের উন্নয়নে নেয়া পরিকল্পনাগুলো তদারকি এবং বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, আসন্ন এই কর্মপরিকল্পনায় বয়সভিত্তিক দলগুলোর বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনসহ তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ রয়েছে।’
ক্লাবগুলোর বয়সভিত্তিক একাডেমি পরিচালনার নিয়ম থাকলেও এ দেশের ক্লাবগুলো আর্থিক দৈন্যতার কারণে সেটি করতে পারছে না উল্লেখ করে সালাউদ্দিন বলেন, ‘দেশের স্বার্থে এবং ফুটবলের স্বার্থে প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে বাফুফে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর আওতায় প্রতি বছর জাতীয় যুব টুর্নামেন্ট এবং জেলায় জেলায় ফুটবল লিগ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
২০১৭ সাল থেকেই খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী আবাসিক ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। যেখানে অনুর্ধ্ব ১৪, ১৬ ও ১৯ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সেই সঙ্গে পরিচালিত হবে মেয়েদের অনুর্ধ্ব ১৪ ও ১৬ বছর বয়সীদের আবাসিক ক্যাম্প।’
তিনি নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, এসব কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ যোগানের নিশ্চয়তা তিনি পেয়েছেন। অচিরেই অর্থের উৎস জানিয়ে দেয়া হবে। বাফুফের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে প্রতি বছর অডিট রিপোর্টও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে উল্লেখ করেন।বাংলাদেশের ফুটবলের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
