
সেবা ডেস্ক: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একের পর এক সমালোচনার জন্ম দিয়ে চলেছেন হত্যাসহ ১২টি মামলার আসামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।
আর তারই ধারাবাহিকতায় এবার রাজশাহীর মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নেত্রী লায়লা সুলতানা লিজাকে নিয়ে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নির্বাচনী গণসংযোগে নামায় নিন্দার ঝড় বইছে রাজশাহী নগরী জুড়ে।
শুধু লিজাই নয় তার স্বামী ও দুই বোনও মাদক ব্যবসায় সাথে সম্পৃক্ত এবং তারাও মেয়র প্রার্থী বুলবুলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনী প্রচারণার শুরুর দিক থেকেই স্থানীয় বিএনপি ও রাসিকের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন তিনি নির্বাচিত হতে পারলে রাজশাহীকে মাদকমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। অথচ বুলবুল নিজেই নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজশাহীকে মাদকমুক্ত করার বুলবুলের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে একাধিক নগরবাসী বলেন, এ যেন ভুতের মুখে রাম নাম! তারা বলেন, তিনি একদিকে মাদকমুক্ত নগরী গড়তে চান অন্যদিকে তিনি সব সময় নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সাথেই চলাফেরা করেন।
নগরীর অনেকে জানান, বুলবুলের এবারের নির্বাচনী প্রচারণার খরচের সিংহভাগই আসছে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।
নির্বাচনে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের প্রচারণায় ব্যবহার করছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বুলবুল।
এবার বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা মিললো নগরীর চিহ্নিত মাদক সম্রাজ্ঞী লিজাকে। ধানের শীষের পক্ষে ভোটের প্রচারে নামা তালিকাভুক্ত শীর্ষ এই মাদক ব্যবসায়ী লিজা মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।
নগরীর একাধিক বিশিষ্টজন বলেন, যখন দেশ জুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে ঠিক তখন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটের প্রচারে অবাধে অংশ নিচ্ছেন লিজা সহ একাধিক স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ।
বুধবার সকালে নগরীর ডাশমাড়ি এলাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায় এই লিজাকে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও নাদিম মোস্তফা। তারা বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
এসময় লিজা নেতৃবৃন্দের সাথে উপস্থিত থেকে লিফলেট বিলি করেন। পরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনি ফটোসেশনে অংশ নেন।
বিএনপির স্থানীয় সদ্যস্যদের দেয়া তথ্য মতে, লিজা একসময় রাজশাহী জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তিনি বর্তমানে বিএনপির জেলা কমিটির সদস্য।
জানা যায়, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে জাদুঘর এলাকা থেকে মাদকসহ লিজা গ্রেফতার হন। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন।
মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় অতীতে তিনবার গ্রেফতার হয়েছেন লিজা। রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলার আসামী তিনি। মাদকের ছয় মামলার সবক’টি মামলায় লিজা এজাহারভুক্ত আসামী।
ইয়াবার কারবারের অভিযোগে তিনটি, ফেনসিডিল ব্যবসার অভিযোগে দুটি এবং গাঁজা বিক্রির অভিযোগে রয়েছে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা। তিনি মহানগর ও জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।
দলের একটি অংশের প্রশ্রয়ে লিজা সহ বিএনপির একাধিক মাদক ব্যবসায়ী বুলবুলের পক্ষে ভোটের প্রচারে নেমেছেন। এতে ভোট বৃদ্ধির চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।
