শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

S M Ashraful Azom
0
শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম তফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত গৃহিত টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা।

অভিযোগে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের শিক্ষা পরিদর্শক এরফান উদ্দিন আহম্মেদ ও অডিটর মমতাজুল করিম শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ ২০০০ সালের ৩১ জানুয়ারি পরিদর্শনকালে প্রভাষক এ কে এম তফিকুল ইসলামকে অতিরিক্ত শিক্ষক হিসাবে চিহ্নিত করে গৃহীত এমপিওর ১ লাখ ১৫ হাজার ২৭৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের সুপারিশ করেন। ওই সময় কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় ২০০৮ সালে পুনরায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের শিক্ষা পরিদর্শক ড. আতাউর রহমান ও অডিটর ফারুক গাজীর অডিট কার্যক্রমে বিষয়টি আবারো ধরা পড়ে। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রভাষক এ কে এম তফিকুল ইসলামের নিয়োগের বিষয়টি সম্পর্কে আবারো আপত্তি উত্থাপিত হয়। অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ব্রডশিড জবাব মহাপরিচালক, মাউশি বরাবর পাঠানো হয়। ওই ব্রডশিড জবাব আমলে না নিয়ে এ কে এম তফিকুল ইসলামের নিয়োগ সম্পর্কিত আপত্তি বহাল রাখে মহাপরিচালক। এ কে এম তফিকুল ইসলাম কর্তৃক প্যাটার্ন অতিরিক্ত হিসেবে গৃহীত ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪শ’ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের সুপারিশ করা হয়। ১৯৯৫ সালের জনবল কাঠামোর বিধান অনুযায়ী এই স্থলাভিষিক্তকরণ প্রক্রিয়াটিও বিধিসম্মত নয়। বিধান অনুযায়ী ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর যুক্তিবিদ্যার শিক্ষক হাসানুর রহমান খান পদত্যাগ করার পর তার শূন্য পদে বিধিমোতাবেক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশনা আছে। অথচ এ কে এম তফিকুল ইসলামের নিয়োগ বৈধকরণ সংক্রান্ত্র কোনো তথ্য ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবরের পরে কলেজের নথিতে নেই। ১৯৯৫ সালের জনবল কাঠামোয় বর্ণিত বিধান অনুযায়ী প্রভাষক (যুক্তিবিদ্যা) এ কে এম তফিকুল ইসলাম কোনো কালেই জামালপুর শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজের প্যাটার্নভুক্ত শিক্ষক ছিলেন না। বরাবরই তিনি ছিলেন একজন অতিরিক্ত শিক্ষক। এ কে এম তফিকুল ইসলামের প্রভাষক (যুক্তিবিদ্যা) প্যাটার্ন বহির্ভূত নিয়োগের অভিজ্ঞতাকে তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে ১২ বছর দেখিয়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেন। এই নিয়ে কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. সুরুজ্জামানের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে স্মারক নং ৭ জি-২৩৬ (ক-৩)/০৬/৪০৮১/৭ তাং ০২/০৮/২০১৭ মোতাবেক পত্রের মাধ্যমে একটি তদন্ত টীম এই বিষয়টির উপর তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। উক্ত তদন্ত শেষে বিগত ৩১/০৭/২০১৮ তারিখে স্মারক নং-৭জি-২৩৬(ক-৩)/০৬/২৮৯৩/৫ পত্রমূলে অধ্যক্ষের নাম এমপিও হতে কর্তনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।

এর পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং ৩৭.০০.০০০০.০৬৬. ০১.০৬৮.১৫.৩২৯ মোতাবেক বিগত ২০১৫ সালের ২৭ এপ্রিল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য কতিপয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উক্ত নির্দেশনার বিষয়টি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতিকে অবহিত না করে অধ্যক্ষ চিঠির কতিপয় অংশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এই ক্ষেত্রে তিনি নিজের অযোগ্যতার বিষয়টি আড়াল করেন। এই নির্দেশনার ১৫ এর ছ-২(২) এ বর্ণিত মন্ত্রণালয়ের আদেশটি তিনি আজও বাস্তবায়ন করেননি। উক্ত আদেশে উল্লেখ ছিল. 'ডিজি মাউশি'র সুপারিশের আলোকে প্রভাষক (যুক্তিবিদ্যা) এ কে এম তফিকুল ইসলাম কর্তৃক অতিরিক্ত গৃহীত ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ টাকা তাঁর নিকট থেকে আদায় করে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে চালানোর পরিক্ষিত কপির সত্যায়িত ছায়ালিপি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে। '

এই বিষয়টি নিয়েও কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. সুরুজ্জামানের আবেদনের প্রেক্ষিতে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা'র দপ্তর থেকে বিগত ১৬/১০/২০১৭ তারিখে স্মারক নং-ডিআইএ/জামালপুর/সরকারি/২-সি/ঢাকা/৫৮৩/১৭ পত্রমূলে ২১/১০/২০১৭ ও ২২/১০/২০১৭ তারিখে দুইদিন তদন্ত করেন।

গত ১৪ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা থেকে স্মারক নং-৩৭.০০.০০০০.০৮৭.১৭.০০১.১৮-২১২ পত্র মোতাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর কর্তৃক অতিরিক্ত গৃহিত ৩ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই টাকা জমা দেয়া না হলে তার বিরুদ্ধে সরকারি বকেয়া পাওনা পিডিআর ১৯১৩ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই পত্রে। এ ব্যাপারে শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম তফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখার পত্র তিনি পেয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন।
⇘সংবাদদাতা: জামালপুর প্রতিনিধি

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top