হেমনগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ

S M Ashraful Azom
0
হেমনগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ
অভিযু্ক্ত অধ্যক্ষ বীরেন্দ চন্দ্র গোপ

অভিজিৎ ঘোষ, গোপালপুর: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ বীরেন্দ্র চন্দ্র গোপের বিরুদ্ধে ঘুষ দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চেকের মাধ্যমে ঘুষগ্রহণ, কলেজের ফটোমেশিন বিক্রির টাকা আত্মস্যাৎ সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষক পরিষদের সদস্যরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার হেমনগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ বীরেন্দ্র চন্দ্র গোপ কলেজে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মস্যাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিগত ৫ বছরেও কলেজে কোন অডিট না হওয়ায় অধ্যক্ষ একতরফাভাবে কলেজের টাকা আত্মস্যাৎ করে যাচ্ছে। বিএমসহ ডিগ্রী পর্যায়ে কলেজে ভর্তি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কোন রশিদ দেয়া হয় না। অনলাইন আবেদনের ফি বাবদ আদায়ের টাকা বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে বাকি টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। কলেজের পুরাতন ফটোকপি ৩০ হাজার টাকা মেশিন বিক্রি করলেও সেই টাকা কলেজের ব্যাংক হিসাবে জমা দেননি। এছাড়া কলেজের বিদ্যুৎ লাইন থেকে বাহিরে সংযোগ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ আছে। কলেজের একটি পুকুর ঘুষ নিয়ে নামমাত্র ইজারা দিয়েছেন অধ্যক্ষ।

অন্যদিকে কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মৃত মীর খালেকুর রহমানের মামলা জটিলতার কারনে পরবর্তিতে কলেজে যোগদানের জন্য ২০১৭ সালে চেকের (চেক নং-১৩৮৯২৩৪) মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ করেন অধ্যক্ষ।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে কলেজের শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে কলেজে নিমির্তব্য চারতলা ভবনের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারীর কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে নিম্নমানের কাজ করানোর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, তার কথামত না চললে শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন অধ্যক্ষ। বিভিন্ন খাতে উঠাতে কলেজের টাকা আত্মস্যাৎ করেন সভাপতির দোহায় দিয়ে। সভাপতির নাম ভাঙ্গিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিজের পকেটে তুলছেন তিনি। কলেজে যোগদানের পর কোন অডিট হয় না। তার ভয়ে কলেজের কোন শিক্ষক প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

শিক্ষকের কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে টাকার নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে হেমনগর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ বীরেন্দ্র চন্দ্র গোপ জানান, সেই সময় খালেকুর রহমানের মামলা জটিলতার কারনে বেতন বন্ধ ছিল। সেই কারনে কিছু টাকা নিয়ে বোর্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় দিতে হয়েছিল। এছাড়া কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি কলেজের হিসাব বিভাগ দেখে।
⇘সংবাদদাতা: অভিজিৎ ঘোষ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top