পলাশবাড়ীতে চামড়ার ক্রেতা সমাগম চাহিদা সবই ছিল একটু চাঙ্গা

S M Ashraful Azom
0
The demand for leather buyer attendance at Palashbari was all but a little reinforced
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: বিগত যে কোন সময়ের তুলনাম‚লক স্মরন কালের কোরবানির পশুর চামড়া কেনা-বেচা ম‚ল্যের চরম ধ্বসের ধকল অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে।ঈদ পরবর্তি আজ ২৮ আগস্ট বুধবার ছিল কোরবানির পশুর চামড়া কেনা-বেচার দ্বিতীয় হাট।

দেশের অন্যতম বৃহত্তম গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী কালীবাড়ী চামড়ার হাটে গত বুধবার প্রথম হাটের তুলনায় চামড়ার আমদানি ক্রেতা সমাগম চাহিদা-দর সবই ছিল একটু চাঙ্গা। তবে চামড়া বেচাকেনা হলে দাম ছিলো চাহিদার চেয়ে অনেক গুন কম । অনেক চামড়া ব্যবসায়ি বিনা লাভে চামড়া বিক্রি করে মূলধন তুলেছেন। অনেকেই আবার লোকসানে চামড়া বিক্রি করেছেন।

ঈদ পরবর্তি ১৫ দিন পর কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ের দ্বিতীয় সাপ্তাহিক হাটবার। এরআগে গত ২১ আগস্ট বুধবার বসেছিল কোরবানির চামড়ার প্রথমহাট।উত্তরাঞ্চল তথা সারাদেশ জুড়ে অন্যতম বৃহত্তম গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌর শহরের কালীবাড়ী চামড়ার হাট। আজ বুধবার সাপ্তাহিক হাটবার সামনে রেখে সোমবার বিকেল থেকে শুরু হয় চামড়া আমদানির ধারাবাহিকতা।দু'দিন পেরিয়ে বুধবার কাকডাকা ভোরে এসে আমাদানি ও কেনা-বেচা হয় একীভুত।

কেনা-বেচার পাশাপাশি হাটটি চামড়া ব্যবসায়িদের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়।রাজধানী ঢাকা ছাড়াও উত্তরের রংপুর বিভাগীয় জেলা-উপজেলাসহ সারাদেশ থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়িদের গুন-গুন কোলাহল আর পদচারনায় উঠে মুখরিত। গরু-মহিষ,খাসি-বকরি ও ভেঁড়ার বিপুল পরিমাণ চামড়ায় হাটটির ম‚ল আঙ্গিনা কানায়-কানায় উঠে ভরে উঠে।বিক্রেতাদের পাশাপাশি চামড়া শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি ট্যানারি,লেদার কোম্পানি ও আড়ৎদার ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসহ ছোট-বড় বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রেতা সাধারনের পদচারনা ঘটে।চামড়ার ধপাস ধপাস শব্দে হাটস্থল মুখরিত হয়ে উঠে।

এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিক্রেতারা তাদের আমদানিকৃত পশুর চামড়ার লট সাজানোর পর বুধবার প্রত্যুষে যাচাই-বাছাইসহ শুরু হয় আনুষ্ঠানিক কেনা-বেচার পালা। দিনভর চলে চামড়া কেনা-বেচা।বুধবার দিন গড়িয়ে সন্ধা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত একসময় শেষ হয়।স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠা বিভিন্ন আরৎ বা নিজস্ব গুদামে মজুদ, অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানই তাদের স্ব-স্ব নিজস্ব পরিবহন যোগে গন্তব্যস্থান সরাসরি রাজধানী ঢাকার নিয়ে যান।

হাট ঘুরে দেখা যায় গত হাটবারের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ চামড়ার আমদানি ঘটেছিল।আমদানীকৃত চামড়া সবই বিক্রি হয়েছে।চামড়া অবিক্রিত ফেরত যায়নি বলে জানান ব্যবসায়িরা।

নির্ভরযোগ্য একটি স‚ত্র জানায় গত হাটবারের চেয়ে ঢের গুন বেশি প্রায় ৪০ হাজার পিস গরুর চামড়া এবং খাশি বকরি ও ভেঁড়া মিলে প্রায় ২০ হাজার পিস চামড়ার আমদানি ঘটে।গত হাটে প্রায় ২৫ হাজার পিস গরু এবং ১০/১৫ হাজার পিস ছাগলের চামড়ার আমদানি ঘটেছিল।একটি খাশির চামড়া কুড়ি টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গতহাটে গরুর চামড়া তিন স্তরে শ্রেনিবিন্যাসে ৩০০, ৫০০ ও ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।সমমানের একই চামড়া চাহিদার সহিত বিক্রি হয় যথাক্রমে ৪০০,৬০০ ও ১১-১২'শ টাকা পর্যন্ত।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় রাজধানী ঢাকার আজমেরী ট্যানারি গরুর চামড়া কিনেছেন ৩ হাজার, ওবিএস কিনেছেন সাড়ে ৩ হাজার,আর-কে ট্যানারি কিনেছেন ৮ হাজার পিস ছাড়াও আকিজ লেদারসহ অন্যান্য ক্রেতারা বেশ উলে­খযেগ্য পরিমাণ চামড়া কিনেছেন।এদিকে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাটে আসা নানা কোম্পানি ও ট্যানারিসহ ছোট-বড় মহাজনি ক্রেতা,আরৎদাররাও একইসাথে চামড়া কিনেছেন এবং বিকিয়েছেন।

বিভিন্ন কোম্পানির অনুমোদীত এজেন্সি বা প্রতিনিধি স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়িদের মধ্যে আফতাব মোল­া, ফুলমিয়া,মিনু মন্ডল,নান্নু মিয় ও কাওসার বাবলুসহ অনেক ক্রেতাই চামড়া কিনেছেন।স্থানীয়দের মধ্যে মাহমুদ মিয়া কিনেছেন প্রায় ৮ হাজার চামড়া।সবমিলিয়ে ক্রমান্বয়ে চামড়ার চাঞ্চল্যকর দরপতনের ধ্বস অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গতকাল সন্ধা সাতট চামড়া কেনা-বেচা প্রায় শেষ হলেও অন্যত্র বহনে ট্রাক লোডিং অব্যাহত রয়েছে বলে জানা যায়।


 -সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

ট্যাগস

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Know about Cookies
Ok, Go it!
To Top