
সেবা ডেস্ক: সম্প্রতি দেশের ভয়াবহ বন্যায় যমুনা নদীর ভাঙনে বসতঘর হারিয়েছে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার শতশত পরিবার। সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। এরইমধ্যে কয়েকদিন ধরে যমুনায় পানি বাড়ায় উপজেলার গোবিন্দাসী ইউপির তিনটি গ্রামের পুরাতন জনপদে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। আর এসব ভাঙনের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের বালু উত্তোলনকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
কয়েকদিন আগের বন্যায় যমুনা নদীর ভাঙনে উপজেলার চারটি ইউপির শতশত পরিবারকে অসহায় জীবনযাপন করতে দেখা গেছে। এছাড়া যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও ক্রমাগত বালু উত্তোলনের ফলে যমুনা নদী পূর্ব দিকে ধাবিত হচ্ছে। এতে নদীর পশ্চিমপাড়ে বিশাল চর জেগে উঠলেও পূর্ব পাড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রতিনিয়তই পূর্ব পাড়ে অবস্থিত শত বছরের পুরাতন জনপদ ভেঙে যমুনা নদীতে বিলীন হচ্ছে।
এদিকে যমুনায় পানি বাড়ায় উপজেলার গোবিন্দাসী ইউপির খানুরবাড়ি, কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়াসহ গাবসারা, নিকরাইল ও অজুর্না ইউপির বেশ কয়েকটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। যদিও খানুরবাড়িতে বালুর পরিবর্তে মাটি ভর্তি করে নিম্নমানের জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করছে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড। যেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ফেলার কাজ করছে, সেখানে প্রভাবশালীরা বলগেট মেশিন বসিয়ে বালু তুলছেন। এতে একদিকে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে বালু উত্তোলনের ফলে জিও ব্যাগসহ যমুনা নদীর তীর ভেঙে যাচ্ছে ।
উপজেলার গোবিন্দাসী ইউপির বাগবাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব সেনানিবাস পর্যন্ত প্রায় ১৮-২০টি অবৈধ বালুর ঘাট রয়েছে। এসব ঘাট রাজনৈতিক আশ্রয়ে তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাকযোগে বালু পরিবহন করছে। বঙ্গবন্ধু সেতু-ভূঞাপুর সড়কের পাশে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের একাধিক পুকুর ভরাট করে বালু পরিবহনের জন্য সড়ক তৈরি হয়েছে। আর এ সড়ক তৈরিতে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বালু ঘাটে ট্রাক প্রতি কমিশন স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনকে দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
খানুরবাড়ি গ্রামের মহির উদ্দিন আকন্দ, আবুল হোসেন মিয়া, খালেদা বেওয়া বলেন, যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীরা এলাকার প্রভাবশালী ও ভয়ঙ্কর লোক। বাপ-দাদার ভিটে মাটি যমুনার গর্ভে চলে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। বললে লাশ হতে হবে। জীবনের মায়া সবার আছে। তাই কেউ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে না।
টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম মিয়া বলেন, ভাঙন রোধে খানুরবাড়ি এলাকার যমুনা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলেছি। কিন্তু বালু উত্তোলনের ফলে জিও ব্যাগসহ নদীর পাড় ভেঙে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। বালু উত্তোলনের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো বালু উত্তোলনের মেশিন সেখান থেকে সরানো হয়নি।
ভূঞাপুরের ইউএনও ঝোটন চন্দ জানান, যমুনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন থেকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। খানুরবাড়ি এলাকার যমুনা নদীতে বসানো বালুর উত্তোলনের মেশিন সরাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি যমুনা নদীতে অভিযান চালিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
-সেবা হট নিউজ: সত্য প্রকাশে আপোষহীন

খবর/তথ্যের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, সেবা হট নিউজ এর দায়ভার কখনই নেবে না।